যোগাযোগ চ্যানেল খুলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

নিজেদের মধ্যে একটি যোগাযোগ চ্যানেল খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কাতারে সংলাপ শেষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা ইরনাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি।

এই চ্যানেল খোলার মূল উদ্দেশ্য হবে আগামী ৬০ দিন ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির কোনো ধারা বা শর্ত লঙ্ঘন হলে উভয়পক্ষ যেন তাৎক্ষণিকভাবে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে দিয়েই শেষ হয়েছে কাতার সংলাপ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং তারপর টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত শেষে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র এবং এ কারণেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।

তারপর ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি দল শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে ইসলামাবাদ যান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মো. বাকের গালিবাফের নেতৃত্বাধীন ইরানি প্রতিনিধি দল।

কিন্তু ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও ব্যর্থ হয় সেই বৈঠক এবং চুক্তি স্বাক্ষর না করেই নিজ নিজ দেশে ফিরে যান দুই দেশের প্রতিনিধিরা; চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়ায় ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে যুদ্ধবিরতি।

প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এমন অবস্থা চলার পর মে মাসের মাঝামাঝি ১৪টি ধারা সম্বলিত একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া ইরানকে পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় এক মাস সেই খসড়া পর্যালোচনা করার পর গত ১৫ জুন চুক্তিতে স্বাক্ষরে সম্মতি দেয় ইরান। তারপর ১৭ জুন ‘ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ বা ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

ইসলামাবাদ চুক্তির মূল শর্তগুলো হলো— চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৬০ দিন পর্যন্ত ইরানে হামলা মুলতবি রাখবে যুক্তরাষ্ট্র এবং একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর বিষয়ক আলোচনাকে এগিয়ে নেবে। এছাড়া এই সময়সীমায় ইরানের তেল রপ্তানির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে না এবং বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ফ্রিজড অবস্থায় থাকা অর্থের একটি অংশ ইরান পাবে।

তবে এসবের বিনিময়ে ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কোনো জাহাজ থেকে তেহরান টোল আদায় করতে পারবে না বলেও উল্লেখ রয়েছে চুক্তিতে।

সূত্র : এএফপি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত