রোনালদো নয়, লড়াইটা হবে পর্তুগালের মিডফিল্ডের সঙ্গে 

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

ফুটবল রোমান্টিকদের কাছে ম্যাচটি হয়তো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বনাম লুকা মদ্রিচের এক শেষ মহাকাব্যিক লড়াই। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে থাকা দুই কিংবদন্তির কে বিশ্বমঞ্চে আর একটু এগিয়ে যাবেন—ক্যামেরার সব আলো স্বাভাবিকভাবেই কেড়ে নিচ্ছে সেই চিরন্তন বিতর্ক। কিন্তু টরন্টোর শেষ বত্রিশের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটিকে একদম ভিন্ন চোখে দেখছেন ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাতকো দালিচ। তার মতে, ম্যাচের ভাগ্য রোনালদোর নামের ওপর নয়, বরং নির্ধারিত হবে মাঝমাঠের তীব্র স্নায়ুযুদ্ধে। পর্তুগালের বিশ্বমানের মিডফিল্ড ইঞ্জিনের সাথে ক্রোয়েশিয়ার চেনা শক্তির যে সংঘাত হতে যাচ্ছে, সেটাই ঠিক করে দেবে কোন বুড়ো তরুণের বিশ্বকাপ স্বপ্ন টিকে থাকবে আর কার হবে বিদায়।

বিশ্বমঞ্চে প্রথমবার মুখোমুখি হতে যাওয়া এই দুই দলের শক্তি ও কৌশলের মূল ভিত্তিই তাদের মাঝমাঠ। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দালিচ খুব স্পষ্ট করেই বলেছেন, “আমি মনে করি এটি হতে যাচ্ছে সম্পূর্ণ মিডফিল্ডের লড়াই। পর্তুগালের মাঝমাঠে দারুণ সব প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে যারা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত পরিপক্ব। এমন একটি ম্যাচে যেকোনো ছোট ভুলই বড় শাস্তির কারণ হতে পারে।” পর্তুগালকে পুরো ম্যাচজুড়ে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পছন্দ করা দল হিসেবে উল্লেখ করে ক্রোয়েশিয়া বস আরও যোগ করেন, “এই দলের দুর্বলতা খুব কম এবং তারা যেকোনো মুহূর্তে প্রতিপক্ষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”

ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করা ক্রোয়েশিয়া বরাবরের মতোই তাদের চেনা লড়াকু মানসিকতা দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। পানামার বিপক্ষে ১-০ এবং ঘানার বিরুদ্ধে ২-১ গোলের জয়ে তারা প্রমাণ করেছে নকআউট পর্বে তারা কতটা বিপজ্জনক। ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের মূল চালিকাশক্তি অবধারিতভাবেই তাদের ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক মদ্রিচ। তবে এবার তার সাথে যোগ দিয়েছেন ইংলিশদের জালে বল পাঠানো মার্টিন বাতুরিনা এবং ঘানার বিপক্ষে গোল করা পেতার সুচিচের মতো তরুণ তুর্কিরা।

অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে মাত্র এক জয় ও দুই ড্র নিয়ে পর্তুগাল নিজেদের নামের প্রতি পুরোপুরি বিচার করতে না পারলেও তাদের মাঝমাঠের গভীরতা যে কারো জন্য ঈর্ষণীয়। ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস এবং ব্রুনো ফার্নান্দেজের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া পর্তুগিজ মিডফিল্ড যেকোনো মুহূর্তেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম। তাই অবধারিতভাবেই ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে এই ত্রয়ী। রোনালদো ও মদ্রিচের দ্বৈরথ নিয়ে লিভাকোভিচ অবশ্য বেশ কূটনৈতিক জবাবই দিয়েছেন, “বিশ্ব ফুটবলের দুই মহানায়ক এখানে লড়ছেন যারা খেলাটার জন্য অবিশ্বাস্য অবদান রেখেছেন। তবে আমি নিশ্চিত, লুকা তার জয়যাত্রা অব্যাহত রাখবেন।”

টরন্টোর দর্শকদের জন্য এটিই চলতি বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ। আর এই মঞ্চেই হয়তো ফুটবলবিশ্ব চিরতরে বিদায় জানাবে মদ্রিচ কিংবা রোনালদোর যেকোনো একজনকে। মহাতারকাদের বিদায়ের এই করুণ সুরের আবহেই আড়ালে জমে উঠেছে মাঝমাঠের সেই দাবার বোর্ড, যেখানে চালের সামান্য ভুলে ভাঙবে কোটি ভক্তের হৃদয়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত