ছিঁচকেরা জালে, অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্যে

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৭ এএম

চট্টগ্রাম শহর এবং রাউজান উপজেলায় গত দুই বছরে ৩১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর খুনের মধ্যে পুলিশ অন্তত ২০টি খুনের ঘটনায় অত্যাধুনিক এসএমজি (সাব-মেশিনগান), পিস্তল, রাইফেল ব্যবহারের তথ্য পেয়েছে। পুলিশের দাবি, চট্টগ্রামে খুনাখুনিতে কিছু প্রশিক্ষিত শুটার জড়িত। এদিকে রাউজানে ২৪ হত্যা মামলায় পুলিশ এজাহারভুক্ত ২৪ আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি করলেও তাদের মধ্যে নেই মূল অস্ত্রধারী কোনো সন্ত্রাসী কিংবা প্রশিক্ষিত শুটার। 

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে গত দুই বছরে প্রায় প্রতিটি খুনের ঘটনায় নাম এসেছে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের। সাজ্জাদের দলে রয়েছে একাধিক প্রশিক্ষিত শুটার। জানা গেছে, বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদের হয়ে দেশে তার বাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন ছোট সাজ্জাদ।  বর্তমানে ছোট সাজ্জাদ কারাগারে রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গত দুই বছরে ভারতে পলাতক বড় সাজ্জাদ বাহিনীর হাতে নগর ও জেলার রাউজানে ঘটেছে অন্তত এক ডজন টার্গেট কিলিং। আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিরোধ, আধিপত্যের দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি, বালুমহালের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি নগরের চন্দনপুরায় সাবেক সংসদ সদস্য ও স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এ ঘটনার আগে বড় সাজ্জাদের বিরুদ্ধে মুজিবুর রহমানকে কল করে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, ‘রায়হান ও মোবারক হোসেন ইমন ছাড়া বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যকে  আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তার সেকেন্ড ইন কমান্ড ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাবন্দি। বড় সাজ্জাদ বিদেশে পলাতক। সাজ্জাদ বিদেশে বসে অনলাইনে আর স্যাটেলাইটে হুমকি-ধমকি দেয়।’

জানা গেছে, ছোট সাজ্জাদ কারাবন্দি হওয়ায় দলে বড় সাজ্জাদের হয়ে হাল ধরেন অন্তত ৮টি হত্যা মামলার আসামি পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. রায়হান ও মোবারক হোসেন ওরফে ইমন। সর্বশেষ গত ১৩ জুন রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হত্যায় অংশ নেন দিদারুল আলম, ধামা ইলিয়াছ, ইউছুপ, আবছারসহ পাঁচজন। উক্ত পাঁচ অস্ত্রধারী রায়হান গ্রুপের সদস্য বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, ‘টার্গেট’ করা ব্যক্তিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রায়হান ও ইমন। এই দুজন ‘এ’ ক্যাটাগরির শুটার। হত্যার মিশন বা হামলা বাস্তবায়ন করেন নাজিম, কাদের, বোরহান। এই তিনজন ‘বি’ ক্যাটাগরির শুটার। আর ‘সি’ ক্যাটাগরির শুটার হিসেবে ব্যাকআপ টিমে থাকেন প্রশিক্ষিত শুটার নাজিম উদ্দিন, রাশেদ, ভাতিজা মোহাম্মদ, ববি আলম, কামাল, হাসান, নুরুল হক, বোরহান, মবিন, কাদের, তপু, আজম, মনির, তুষার, ছালেক, এরশাদ, তুহিন ও সোহেল। কিন্তু গত ২২ মাসে রায়হান বাহিনীর এসব প্রশিক্ষিত শুটারদের একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি নগর কিংবা জেলা পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না গেলে চট্টগ্রাম নগরীতে খুনাখুনির ঘটনায় লাগাম টানা কঠিন হয়ে পড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত