শিক্ষার্থী ঝরেপড়ার মিছিল

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪১ এএম

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি ও সমমান) পরীক্ষা গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে। সকাল ১০টায় সারা দেশে একযোগে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত শুরু হয়। তবে, এবার নিয়মিত-অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তবে, ৫ লাখ ৪৪ হাজার (৩৩ শতাংশ) শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়েছে অর্থাৎ তারা পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। গতকাল শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।

এদিকে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সংখ্যার বিবেচনায় অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীও তুলনামূলক বেশি। গতকাল পরীক্ষার প্রথম দিনে মোট ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। ২০২৫ সালে পরীক্ষার প্রথম দিন অনুপস্থিত ছিল ১৯ হাজার ৭৫৯ জন পরীক্ষার্থী। প্রতি বছর এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় অসংখ্য শিক্ষার্থী নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করেও অনেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় না। তবে, চলতি বছরের এ পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার এই হার অস্বাভাবিক বেশি বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। এ নিয়ে গতকাল শিক্ষামন্ত্রীও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা না দেওয়ার হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। তবে, শিক্ষামন্ত্রী গতকাল জানিয়েছেন, পরীক্ষায় অনুপস্থিতি এ বছর ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এহছানুল হক মিলন বলেন, ৫ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হলেও পরীক্ষা দিচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘সাধারণ ধারার প্রায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। তারা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘যখন আমরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছি, তখন এটি আমাদের জন্য ভালো খবর নয়।’ 

গতকাল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসির পর এইচএসসিতে নির্ধারিত হারে সব সময় ঝরে যায়। এর কারণ হিসেবে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়া অথবা পরিবারের জন্য কাজে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেটি ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকত। কিন্তু এবার দেখা গেল মাদ্রাসায় ৪৪ শতাংশ, কারিগরিতে ৫৪ শতাংশ ও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ৩৩ শতাংশ ঝরে গেছে। এটা বড় সংখ্যা।’ তিনি বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছে না, পরীক্ষা সঠিকভাবে হচ্ছে। অভিভাবকরা সহযোগিতা করছেন। সবকিছু মিলিয়ে এবার হয়তো কিছুসংখ্যক ছাত্রছাত্রী চিন্তা করেছে, বিগত দিনের মতো প্রস্তুতি ছাড়া কেউ যেতে পারছে না। সে জন্য বোধহয় হারটি (ঝরে পড়া) বেড়ে গেছে।’ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এটি খুব খারাপ সূচক (ইন্ডিকেটর)। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত