রাউজান এবং চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ, বায়েজিদ, বাকলিয়া ও চান্দগাঁও থানায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত ২৩ মাসে ৩৩টি হত্যাকা- ঘটেছে। এ সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ আহত হয়েছে প্রায় ৩৫০ মানুষ। গুলি করে হত্যার ঘটনা ছিল ২০টি।
রাউজানে ২৪ খুনের ঘটনায় অস্ত্রধারীরা এখনো অধরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া ৯৪৮ আগ্নেয়াস্ত্রের ১৫৫টি বিদেশি, সেগুলো এখনো উদ্ধার করা যায়নি। এসব অস্ত্র দিয়ে খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি প্রভৃতি অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে নগর ও জেলার রাউজানে সংঘটিত ৩৩ খুনের একটিরও তদন্ত শেষ হয়নি।
গত ১৩ জুন দুপুর দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলীর চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে পাশের উপজেলা রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে। এ হত্যাকা-ে অংশগ্রহণকারী পাঁচজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। দুদিন পর ওই পাঁচজন এবং তাদের দলনেতা শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. রায়হানসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার আট দিনের মাথায় মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোহাম্মদ আইয়ুবকে (৪৫) গত রবিবার ভোরে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের দুরছড়ি গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। আইয়ুব রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের শমসেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। হত্যা মামলার এজাহারের ৯ নম্বর আসামি তিনি।
র্যাব ৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আইয়ুব মাসুদুল কিলিং স্কোয়াডের অন্যতম সদস্য। তিনি ব্যাকআপ টিমের সদস্য হিসেবে হত্যাকা-ে অংশ নিয়েছিলেন। কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে।’
সর্বশেষ ১ জুলাই বুধবার চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার ফরেস্টগেইট এলাকায় মাদকের আস্তানায় গুলিতে মো. আজাদ নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গুলিতে সংঘটিত ২০ হত্যাকা-ের প্রতিটি কার্যকরী করা হয়েছে নিখুঁত পরিকল্পনায়। ভাড়াটে ও প্রশিক্ষিত শুটার দিয়ে খুনের এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এসবের নেপথ্যের চক্রগুলোকে পুলিশ চিহ্নিত করেছে দাবি করলেও অজানা কারণে রাউজানে থামছে না খুনোখুনি। ক্ষমতার পালাবদলের পর রাউজানে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক কোন্দল, বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের দ্বন্দ্বের জেরে এসব ঘটছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এসব হত্যাকা-ের অন্যতম কারণ রাউজান-রাঙ্গুনিয়ার সীমান্তঘেঁষা কর্ণফুলী ও হালদা নদীর বালু উত্তোলনের শতকোটি টাকার বাণিজ্য। চব্বিশের ৫ আগস্ট পুরনো সিন্ডিকেট বালুর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ হারালে নতুন ক্ষমতাসীন দলের একাধিক গ্রুপ বালুমহালের দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। ফলে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি ইট-মাটির ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় রাজনৈতিক পক্ষগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলও এর জন্য দায়ী।
জেলা পুলিশের তথ্যানুয়ায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ২২ মাসে রাউজানে খুনের অভিযোগে মামলা হয়েছে ২৪টি। গ্রেপ্তার হয়েছে ৬৫ জন। তাদের মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ২৬ ও সন্দেহভাজন ৩৯ জন। সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন এজাহারভুক্ত ১১ জন। মামলার মোট এজাহারভুক্ত আসামি ৫০ জনের বেশি এবং সন্দেহভাজন আসামি ২৮৩ জন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে পাঁচ আসামি।
জেলা পুলিশ গত সাড়ে ২২ মাসে রাউজানে সংঘটিত ২৪ খুনের মামলায় এজাহারভুক্ত ২৬ জনকে গ্রেপ্তারের দাবি করলেও তাদের মধ্যে একজনও প্রশিক্ষিত শুটার বা রায়হান গ্রুপের সদস্য নেই।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম সম্প্রতি তার কার্যালয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রতিটি হত্যার ঘটনার তদন্ত চলছে। যুবদল নেতা মাসুদুল হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে আমরা একটা প্ল্যান করছি। তদন্তের স্বার্থে তা বলা যাচ্ছে না।’
বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিকদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সন্ত্রাসীরা রাউজানে হত্যাকা- ঘটিয়ে চলছে বলে অভিযোগ উঠছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোনো দল হয় না।’ রাউজানের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মো. রায়হানসহ অন্য অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ব্যর্থ কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘অস্ত্রধারী দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা হত্যাকা- ঘটিয়ে রাউজানের পাশে দুর্গম পাহাড়ে আত্মগোপন করে। তদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ রাউজানের ভৌগোলিক অবস্থান। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান প্রয়োজন, হেলিকপ্টার প্রয়োজন।’
বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের যদি কেউ আশ্রয় দিয়ে না থাকে, তাহলে কার মদদে এসব হত্যাকা- হচ্ছে। রাউজানকে কারা অশান্ত করে রাখছে? কাদের ইশারায় এসব হচ্ছে সাধারণ মানুষ তা জানে। তোমাকে পরামর্শ দিচ্ছি তুমি রাউজানে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলো। কারা এসব করছে সাধারণ মানুষই বলে দেবে।’
রাউজানের বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। রাউজানের অস্ত্রধারীরা সবাই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী। পুলিশ চাইলে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার অসম্ভব নয়। তবে এটাও সত্য যে, আমার দলের মাঝারি পর্যায়ের কিছু নেতা রাউজানের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘একজন সন্ত্রাসী ভারতে বসে তার বাহিনী দিয়ে অপরাধ ঘটাচ্ছে। তবে পুলিশ আন্তরিক হলে রাউজান সন্ত্রাসমুক্ত হবে। আমরা পুলিশকে সহযোগিতা দিয়ে যাব।’
রাউজান থানার তৎকালীন ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘রাউজানে বর্তমানে সক্রিয় আছে বড় সাজ্জাদের রায়হান গ্রুপ, আলম গ্রুপ ও ফজল হক গ্রুপ। তাদের মধ্যে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে এক ডজন খুনের ঘটনা ঘটেছে।’
জানা গেছে, গেল সাড়ে ২২ মাসে রাউজানে সংঘটিত ২৪ খুনের ঘটনার ১৫টি ছিল রাজনৈতিক হত্যাকা-। ২০২৫ সালের ৬ জুলাই রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নে মুহাম্মদ সেলিম নামে (৪০) এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি কদলপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব ছিলেন।
২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি উপজেলার নোয়াপাড়ায় মসজিদে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন নগরের খাতুনগঞ্জের আড়তদার মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)। একই বছরের ১৯ এপ্রিল রাতে ভাত খাওয়ার সময় মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা মুখে বন্দুকের নল ঢুকিয়ে হত্যা করে যুবদলকর্মী মানিক আবদুল্লাহকে (৩৬) । ২২ এপ্রিল উপজেলা সদরের গাজিপাড়া গ্রামে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদলকর্মী ইব্রাহিমকে। ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর নোয়াপাড়ায় দুপক্ষের অনুসারীদের সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ ২০ জন আহত হয়।
২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঠিকাদার পেয়ার মোহাম্মদ বাবু। ১৯ ফেব্রুয়ারি মুহাম্মদ হাসান (৩৫) নামে এক যুবলীগকর্মীকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা। ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের পিটুনি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন কমর উদ্দিন জিতু (৩৬) নামে এক যুবদলকর্মী। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান ও তার সহযোগীরা।
২০২৫ সালের ১৯ মার্চ রাউজান উপজেলার নোয়াজিশপুর ইউনিয়নে ইফতার মাহফিল আয়োজন কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ ১৫ জন আহত হয়। ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর বিকেলে হাটহাজারী থানা এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় ব্যবসায়ী আবদুল হাকিমকে। চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাউজানের অলিমিয়াহাটে গুলি করে হত্যা করা হয় আবদুল মজিদ (৫০) নামে এক যুবদলকর্মীকে। এর আগে ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পথেরহাট বাজারে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের অনুসারীদের সংঘর্ষে মুহাম্মদ ফরিদ নামে এক যুবদল নেতার গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ আটজন আহত হয়।
১৯ মাসে নগরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শিশুসহ ৮ জন : চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের পাঁচটি থানায় গত ১৯ মাসে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছে এক শিশুসহ আটজন। সেই সময়ে পুলিশসহ গুলিবিদ্ধ হয়েছে ২২ জন। এ সময়ে চান্দগাঁও ও চকবাজার থানায় গোলাগুলির দুটি ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৫ মে পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটেছে। ৮ খুনের ঘটনার তিনটি বায়েজিদ থানায়, ২টি বাকলিয়া এবং পতেঙ্গা, সদরঘাট ও চান্দগাঁও থানায় একটি করে খুনের ঘটনা ঘটেছে। ৮ খুনের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে সাতটি। গোলাগুলির ঘটনায় চকবাজার ও চান্দগাঁও থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
সিএমপিসূত্র জানায়, সাত খুনের মামলায় এজাহারভু ক্ত আসামি ৬২ জন ও অজ্ঞাত পরিচয়ের ৮৯ জন। তদন্তে প্রাপ্ত ও এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে ৬১ জন। সাত খুন ও গোলাগুলির দুটি ঘটনায় সম্পৃক্ত ‘সন্ত্রাসী’ গ্রেপ্তার হয়েছে ৩১ জন। এখনো পলাতক ১৭ আসামি। সাতটি খুন ও গোলাগুলির দুটি মামলার একটিরও তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। পতেঙ্গা থানায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর ও বাকলিয়া থানায় সাজ্জাদ নামে এক যুবকের গুলিতে নিহতের মামলায় পাঁচজন করে মোট ১০ জন এজাহারভুক্ত আসামি আত্মসমর্পণ করেছে।
২০২৬ সালের ৮ মে নগরের বায়েজিদের রউফাবাদে প্রকাশ্যে একদল সন্ত্রাসী রাজু নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে। সেই সময় দোকানে পান আনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় রেশমি আক্তার নামে ১২ বছরের এক কন্যাশিশু। ১২ দিন হাসপাতালে লাইফসাপোর্টে থাকার পর রেশমি মারা যায়। এ ঘটনায় বায়েজিদ থানায় হত্যা মামলা হয়। ২০২৫ সালের ২৩ মে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে শীর্ষ ‘সন্ত্রাসী’ আলী আকবর ওরফে ঢাকাইয়া আকবরকে (৪৪) গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় কারাবন্দি ‘সন্ত্রাসী’ ছোট সাজ্জাদের অনুসারী দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মো. রায়হান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পতেঙ্গা থানায় মামলা হয়। গত বছরের ৫ নভেম্বর বায়েজিদের চালিতাতলীতে বিএনপির গণসংযোগে গুলি চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী রায়হান ও তার সহযোগী মোবারক হোসেন ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়।
২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট রাতে অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের অনন্যা আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে মো. আনিস (৩৮) ও মাসুদ কায়সার (৩২) নামে দুই যুবলীগকর্মীকে হত্যা করা হয়। আনিস খুন হন নগরের বায়েজিদ থানায় এবং মাসুদ কায়সার খুন হন হাটহাজারী থানায়। এসব ঘটনায় হাটহাজারী ও বায়েজিদে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী শিবিরের সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদসহ চারজনের নাম উলেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর চান্দগাঁও থানার শমশেরপাড়ায় আফতাব উদ্দিন তাহসিন (২৮) নামে এক যুবককে মাইক্রোবাসে করে এসে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশের ধারণা, ছোট সাজ্জাদ বাহিনী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ রাতে বাকলিয়া এক্সেস রোডে প্রাইভেটকারকে ধাওয়া করে গুলি চালালে বখতিয়ার মানিক (৩০) ও আবদুল্লাহ আল রিফাত (৩২) নিহত হন। তারা ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার সাকিব ওরফে বাবলার (নিহত) অনুসারী হিসেবে পরিচিত। জোড়া খুনের ওই ঘটনায়ও শীর্ষ সন্ত্রাসী রাউজানের মো. রায়হান ও মোবারক হোসেন ইমন এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।