মন্ত্রিসভার বৈঠক

বিনিয়োগ টানতে নতুন ভিসানীতি অনুমোদন

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার লক্ষ্যে ‘ভিসানীতি-২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তবে এই নীতিমালাকে আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

ভিসানীতিতে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আগে ভিসা দেওয়ার হিসাব ছিল পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে। অর্থাৎ, অন্য একটি দেশ আমাদের নাগরিকদের যেভাবে বা যতদিনের ভিসা দেবে, আমরাও তাদের নাগরিকদের ঠিক ততটুকুই দিতাম। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিম-লে দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের কিছু জায়গায় তো প্রয়োজন বেশি। বিদেশি একজন ব্যবসায়ী যদি আমাদের দেশে আসে, তবে তা আমাদের জন্যই সুবিধা। তিনি এখানে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এই বোধ থেকেই বর্তমান সরকার চাচ্ছে দেশে একটি বড় ইকোনমিক থ্রাস্ট (অর্থনৈতিক গতিশীলতা) তৈরি হোক।’

নাসিমুল গনি জানান, ভিসা পলিসি সহজ করার এই বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে নীতিমালার শেষ অংশটুকু আরও নিখুঁত করতে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখানে মূলত নিরাপত্তার (সিকিউরিটি) ইস্যুগুলো দেখবে। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের যদি আরও কোনো যৌক্তিক চাওয়া বা ইন্টারেস্ট থাকে, যা এই পলিসিকে সমৃদ্ধ করবে সেটুকু যুক্ত করে এটি চূড়ান্ত করা হবে। এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে তো অত পুঁজি নেই। বাইরের উদ্বৃত্ত পুঁজি যত বেশি আমাদের দেশে বিনিয়োগ হবে, আমাদের জন্য ততটাই মঙ্গল। মূলত বাইরের সেই সারপ্লাস পুঁজি বা বিনিয়োগগুলো টানার জন্যই আমরা চেষ্টা করছি, যাতে বিদেশিরা দ্রুত ও সহজে আসতে পারেন।’

নতুন নীতিমালায় ভিসার ক্যাটাগরি বা শ্রেণিবিভাগ কেমন থাকছেসাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নতুন নীতিমালায় প্রায় ৩৪টি ক্যাটাগরির ভিসা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) খাত উৎসাহিত করা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা জোরদার করার লক্ষ্যে ২০০৬ সালের পুরনো ভিসা নীতিমালা সংশোধন করে এই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত