বাণিজ্যিক হচ্ছে সেই অতিথিশালা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩১ এএম

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আন্তর্জাতিক মানের অতিথিশালাটি ইজারা দিতে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত বছরের জুলাই ও সেপ্টেম্বরে ২৯ বছর মেয়াদে এটি লিজ দেওয়ার জন্য দুবার আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকা হয়েছিল। তবে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়নি। স্থানীয় দুই থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও তাদের প্রস্তাবিত দর সেতু কর্তৃপক্ষের প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে কম হওয়ায় তা গ্রহণ করা হয়নি। সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যেই এই পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। মূলত অতিথিশালাটিতে প্রতিদিন কতজন মানুষ থাকবেন তার কোনো নির্দিষ্ট মানদ- বা পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় একটি আনুমানিক প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। নিলামের মতো প্রক্রিয়া অবলম্বন করে দু-একবার যাচাইয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ উপযুক্ত দর পেতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, নির্বাচিত ইজারাদার অতিথিশালার সব স্থাপনা ‘যেমন আছে’ ভিত্তিতে হস্তান্তর করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী ওই সম্পত্তি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং বার্ষিক ন্যূনতম চার কিস্তিতে ভাড়া পরিশোধ করবেন ইজারাদার। অতিথিশালার রুম সার্ভিস, খাবার, ভ্রমণ, সম্মেলন, স্পা ইত্যাদি সেবা চালু করে ইজারাদার মুনাফা অর্জন করবেন এবং এসব সেবার মূল্য নির্ধারণে পূর্ণ স্বাধীনতা পাবেন। তবে দর্শনার্থী বাড়াতে কোনো নতুন নির্মাণ বা কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য ইজারাদারকে সেতু কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।

কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পে যে জায়গায় অতিথিশালা নির্মাণ করা হয়েছে সেটাকে বলা হয় ‘সার্ভিস এরিয়া’। প্রকল্পের শুরুতে সার্ভিস এরিয়া ছিল না। মাঝপথে তা যুক্ত করে প্রায় ৭২ একর জায়গাজুড়ে তৈরি করা হয়েছে নানা স্থাপনা। পারকি সৈকতসংলগ্ন সমুদ্র ঘেঁষে গড়ে তোলা এই অতিথিশালা সাত তারকা মানের। এখানে রয়েছে একটি ভিআইপি বাংলো। অত্যাধুনিক ও সুসজ্জিত এ বাংলোটি প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট আয়তনের। এটি ছয় কক্ষবিশিষ্ট। আছে একটি সুইমিংপুলও। ভিআইপি এ বাংলো ছাড়াও অতিথিশালায় রয়েছে আরও ৩০টি বাংলো। রয়েছে ৪৮টি মোটেল মেস।

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছে এ বিলাসবহুল অতিথিশালা। এতে খরচ হয়েছে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা,যার সিংহভাগই ঋণ হিসেবে বাংলাদেশকে দিয়েছে চীন। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর কর্ণফুলী টানেল যান চলাচলের জন্য চালু করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে অলস পড়ে আছে অতিথিশালা। এটি বাণিজ্যিক খাতে ইজারা দিয়ে টানেল প্রকল্পে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ সেতু কর্তৃপক্ষের।

জানতে চাইলে সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ রজব আলী বলেন, ‘অতিথিশালা নির্মাণের পর থেকে এখন পর্যন্ত চালু করা হয়নি। এটি চালুর জন্য জনবল নেই। এজন্য সরকারের সিদ্ধান্তে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য এটি ইজারা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই টেন্ডার জমা নেওয়া হবে। এরপর ২৯ বছরের জন্য সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে এটি ইজারা দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত