নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতির বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তার ধারণা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড নিরাপত্তা হুমকি নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, কার্যকর কৌশল ও সার্বক্ষণিক প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।’

রবিবার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত পিজিআর-এর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পিজিআর-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই গৌরবময় দিনে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের। বিনম্র শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বীর উত্তমকে- যাঁর হাত ধরে এই বাহিনীর বিকাশ ঘটেছিল, পেয়েছিল নতুন রূপ। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে- যিনি এই বাহিনীর সম্প্রসারণ ও উৎকর্ষে অনন্য অবদান রেখেছেন।’

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে শাহাদাত বরণ করেন। এই শোকাবহ ঘটনায় পিজিআর-এর পাঁচজন বীর সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আজকের দিনে আমি সেইসব শহীদ বীর সদস্যসহ সকল সদস্যকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, যাঁরা কর্তব্যের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করেছেন।’ 

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত বীর যোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।

পিজিআর সদস্যদের দায়িত্বের পরিধি ও গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের দায়িত্ব অত্যন্ত স্পর্শকাতর, গৌরবময় এবং চ্যালেঞ্জপূর্ণ। রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং দেশি-বিদেশি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার সঙ্গে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে সুসমন্বয় বজায় রাখা জরুরি।’

প্রধানমন্ত্রী পিজিআর সদস্যদের অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি, জনগণ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে সংযোগে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়েও আপনাদের বিশেষভাবে যত্নবান হতে হবে।’

সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে আমরা ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’’ নীতি গ্রহণ করেছি। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর-এর কর্মসক্ষমতা ও দক্ষতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।’

পরিশেষে, সততা, নিষ্ঠা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অটুট রাখার জন্য পিজিআর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি রেজিমেন্টের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত