হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল হাসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও কোটি টাকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
সম্প্রতি উপজেলার আহমদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল মিয়া এ আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দ পাওয়া উপজেলার ৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি থেকে ১০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ‘নৈশ প্রহরী নবায়ন’ কর্মসূচির আওতায় ১৪৯টি বিদ্যালয়ের প্রতিটির কাছ থেকেও ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। শিক্ষক মোটিভেশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের কাছ থেকেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বই বিক্রির অর্থ, ইন্টারনেট বিল, ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং শিক্ষকদের যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, এসব অনিয়মের কারণে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আবেদনে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে আবেদনটির অনুলিপি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্যের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল হাসান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের কোনো অনিয়মের সঙ্গে আমি জড়িত নই।