দুমকির ৪৪ প্রাথমিকে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ৬১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৪টিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলেও একসঙ্গে পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। বর্তমানে ১৬টি বিদ্যালয়ে পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে ১৯টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং ২৫টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। ফলে বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষকদের তদারকি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে তারা শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি প্রতিবেদন প্রণয়ন, হিসাব-নিকাশ, অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমেও চাপ বাড়ছে। এর প্রভাব শিক্ষার মান ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরবে এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। তারা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলিন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, বর্তমানে শূন্য পদগুলোতে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধান শিক্ষক একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু। তাই দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ে এই পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত শূন্য পদ পূরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে দুমকির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত