নড়াইল

জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পুরস্কার ঘোষণা, থানায় অভিযোগ

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

নড়াইলে জুলাই যোদ্ধা ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন ছাত্রকে মারার জন্য দেড় লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ১১ জনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাস আসায় বিভিন্ন সময়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পারলে ফেসবুকে দেড় লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পলাতক কয়েকজন নেতাকর্মী। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ নড়াইলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান নয়ন (৩৮), সহসভাপতি সৌরভ কর্মকার (২৬), লোহাগড়া উপজেলার কুন্দসী গ্রামের বাসিন্দা ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সজিবুল ইসলাম হৃদয় (২৬), একই এলাকার শাহাদাত হোসেন রায়হান (২৫), লোহাগড়ার চাচই গ্রামের আরব শিকদারের ছেলে ইমন শিকদার (২৪), লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাচই গ্রামের সাইফুল জমাদ্দারের ছেলে মো. মিলন জমাদ্দার (২৯), মল্লিকপুর গ্রামের মো. ইস্রাফিল (২৫), কাশিপুর ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের মো. সজীব চৌধুরী (২৬), লোহাগড়ার কালনা গ্রামের এস কে আসলাম (২৫), নড়াইল পৌরসভার নড়াইল গ্রামের মহসীন বিশ্বাসের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস (৪০) এবং সদর উপজেলার চণ্ডীবরপুর ইউনিয়নের সিবানন্দপুর গ্রামের আজগর শেখের ছেলে মো. জুবায়ের শেখ (২০)।

এ প্রসঙ্গে নড়াইল জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আসায় আওয়ামী লীগ পাগল হয়ে গেছে। বিদেশে বা বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে থেকে তারা এ ধরনের হুমকি দিচ্ছে। কিছুদিন আগে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে বলে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। আমরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। প্রতিকার চাই, তবে প্রতিকার না পেলে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’

এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ আল জাবের তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেই ১১ জনের মধ্যে আমি নিজেকে বাদ দিলে বাকি ১০ জনের অধিকাংশকেই ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। এমনকি যিনি অভিযোগ করেছেন, তাকেও আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তাঁর সঙ্গে আমার কখনো কথা হয়নি বা দেখা হয়েছে কি না, সেটিও আমার জানা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা হোক। আমি আইনকে সর্বোচ্চ সম্মান করি। প্রকৃত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে আমি নিজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উপস্থিত হয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করব। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হোক।’

এ বিষয়ে নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অপরাধীদের শনাক্ত করে এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত