উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে এইচএসসি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:০১ এএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট তীব্র বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেন্টমার্টিন দ্বীপের সঙ্গে দেশের মূল ভূখ-ের নৌ-যোগাযোগ টানা ছয় দিন ধরে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উত্তাল সাগর আর ঝড়ো হাওয়ার এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই চলছে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় দ্বীপের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সব শঙ্কা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকে জয় করে শেষ পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের সহায়তায় নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছে পরীক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত সাড়া দেয় টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ অনুমতি ও নির্দেশনায় কোস্ট গার্ডের একটি উদ্ধারকারী ও শক্তিশালী বিশেষ বোটের ব্যবস্থা করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা উত্তাল সমুদ্রের প্রবল ঢেউ আর ঝড়ো হাওয়া উপেক্ষা করে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে পরীক্ষার্থীদের অত্যন্ত নিরাপদে ও সতর্কতার সঙ্গে টেকনাফের মূল ভূখ-ের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেন। প্রশাসনের এই তড়িৎ উদ্যোগ এবং কোস্ট গার্ডের সাহসী ভূমিকার কারণে দ্বীপাঞ্চলের পরীক্ষার্থীরা কোনো রকম বাধা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম হয়।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সেন্টমার্টিন রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া যেত না। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আবেদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করি। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশেষ বোটের মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করি। শিক্ষার্থীদের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে প্রশাসন সবসময় তৎপর রয়েছে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত বলেন, ‘সাগর অত্যন্ত উত্তাল ছিল এবং সাধারণ ট্রলার চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা আমাদের বিশেষ শক্তিশালী রেসকিউ বোট ও দক্ষ ক্রু মেম্বারদের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রটোকল বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের টেকনাফ নিয়ে আসি। ঝড়-জল উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে পেরে কোস্ট গার্ড পরিবার গর্বিত।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় আমরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড যেভাবে মানবিকতা, দায়িত্বশীলতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এই মানবিক উদ্যোগের কথা সেন্টমার্টিনবাসী কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত