জ্বালানি নিরাপত্তা ও সহযোগিতা জোরদারে ইউরেনিয়াম রপ্তানিসহ জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক চুক্তি সই করেছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সূত্র এপি নিউজ
চুক্তি অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য ইউরেনিয়াম রপ্তানি করবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সবুজ হাইড্রোজেন এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তিতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে দুই দেশ।
মেলবোর্নে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানেস বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত শুধু ঘনিষ্ঠ অংশীদার নয়, তারা পরস্পরের বিশ্বস্ত বন্ধু। তাঁর ভাষ্য, এই চুক্তি ভারতের জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার খনিজসম্পদ খাতের জন্য নতুন বাজারও তৈরি হবে।
ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরেই অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ইউরেনিয়াম মজুদের প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে আসছে নয়াদিল্লি। অন্যদিকে চীনের ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে ক্যানবেরা।
দুই দেশের মধ্যে ২০১৪ সালে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি হলেও এতদিন ইউরেনিয়াম রপ্তানি সীমিত ছিল। কারণ, সরবরাহ করা ইউরেনিয়াম কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হবে—এ বিষয়ে নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি, পুঁজি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ভারতের জ্বালানি রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগকারীদের ভারতের সড়ক, বন্দর, রেল ও নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম পেনশন তহবিল ‘অস্ট্রেলিয়ান সুপার’ ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডে অতিরিক্ত ৫০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
বর্তমানে ভারত অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। সফরের অংশ হিসেবে মেলবোর্নে প্রবাসী ভারতীয়দের এক সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদির। বিশ্লেষকদের মতে, এ সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।