অতিরিক্ত চার দিন পাকিস্তানে কী করলেন বিইআরসি সদস্য

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া একটি সেমিনারে অংশ নিতে পাকিস্তান গিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারি আদেশে অনুমোদিত সময়ের বাইরে তিনি আরও চার দিন দেশটিতে অবস্থান করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, এই সময়ে দেশটিতে তিনি কী করেছেন।

সাদা চোখে দেখলে এটি আহামরি কোনো অপরাধ নয়। তবে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি (সুলতানা রাজিয়া) একটু বেশিই কট্টরপন্থি। কাজেই পাকিস্তানের মতো দেশে গিয়ে অতিরিক্ত সময় কেন থাকলেন, সে বিষয়ে সরকারের খোঁজ নেওয়া উচিত।

সুলতানা রাজিয়া সরকারি আদেশ মানবেন না, এমন ইঙ্গিত তার ভ্রমণসংক্রান্ত নথিতে আগে থেকেই ছিল। জ্বালানি বিভাগ থেকে বিদেশ ভ্রমণের জন্য জারি করা সরকারি আদেশে (জিও) দেখা যায়, ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত তার বিদেশ সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব শাহিনা আক্তার স্বাক্ষরিত জিওতে বলা হয়, অনুমোদিত সময়ের বাইরে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করতে পারবেন না। দেশে ফেরার সাত দিনের মধ্যে বিদেশ সফর নিয়ে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

রাজিয়া সুলতানা সরকারি আদেশ জারির এক দিন আগেই এ এক্স ট্রাভেল ম্যানেজমেন্ট থেকে থাই এয়ারওয়েজের টিকিট সংগ্রহ করেন। তাতে দেখা যায়, ২৯ জুন ঢাকা থেকে ব্যাংকক হয়ে ইসলামাবাদ পৌঁছানোর জন্য টিজি-৩২২ ফ্লাইটের টিকিট সংগ্রহ করেন তিনি। আবার ৬ জুলাই থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩৫০ এবং ৭ জুলাই টিজি-৩২১ ফ্লাইটে ইসলামাবাদ থেকে ব্যাংকক এবং ব্যাংকক থেকে ঢাকা ফেরার টিকিট সংগ্রহ করেন তিনি।

একজন যুগ্ম সচিব জানান, সরকারি কর্মকর্তারা জিওর বাইরে অননুমোদিতভাবে দেশের বাইরে অবস্থান করলে তাকে তিরস্কার ও সতর্ক করার পাশাপাশি বেতন কাটার বিধান রয়েছে। সুলতানা রাজিয়ার জিও অনুযায়ী, তিনি বিদেশে থাকাকালে দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত বা ‘অন ডিউটি’ গণ্য হবেন। একই সঙ্গে কর্তব্য পালন করায় তিনি বেতন-ভাতাও পাবেন ।

সুলতানা রাজিয়া অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রোহিবিশন অব কেমিক্যাল উইপনস (ওপিসিডব্লিউ), যারা বিশ্বব্যাপী রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণে কাজ করে, তাদের আয়োজিত ‘রসায়নের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার’ বিষয়ক এক ফোরামে অংশ নিতে পাকিস্তান যান।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সুলতানা রাজিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি পাকিস্তান থেকে ফিরেছেন এবং অফিস করছেন। সরকারি আদেশ অনুযায়ী তার ২ জুলাইয়ের মধ্যেই ফেরার কথা ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেন! অনেকেই তো ফ্যামিলি বা অন্য কোনো কারণে থাকতে পারেন।’ কিন্তু সরকারি আদেশ মানা জরুরি কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা, আমি আপনার সঙ্গে কথা বলছি কেন!’ অনুমোদিত সময়ের বাইরে তিনি পাকিস্তানে অবস্থান করেছেনএ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য তার বক্তব্য চাওয়া হচ্ছে উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ‘এখন আমি নামাজ পড়ব, তারপর এ বিষয়ে কথা বলব।’ গতকাল মঙ্গলবার আসরের আজানের পর বিকেল ৫টা ১১ মিনিটে তার সঙ্গে এ প্রতিবেদকের হোয়াটসঅ্যাপে ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড কথা হয়। তিনি পরে কথা বলবেন বললেও আর ফোন করেননি।

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সুলতানা রাজিয়ার দেরিতে ফেরার বিষয়টি কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারকে জানানো হবে। তিনি নিশ্চয় এ বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দেবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত