শিশু ইরা মনিকে হত্যায় বাবু শেখের মৃত্যুদন্ড

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম

চট্টগ্রামের সীতাকু-ের পাহাড়ি এলাকায় ৮ বছরের শিশু ইরা মনিকে শ্বাসনালি কেটে হত্যার ঘটনায় আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। হত্যকা-ের চার মাসের মাথায় গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। এসময় বাবু শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনিকে দলবেঁধে ধর্ষণ ও নদীতে ফেলে হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এ রায় দেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন আরিফ মিয়া (১৯), হাসান রাকিব (২০) ও আবু সাইম (১৮)। এ ছাড়া এ মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে (১৬) দশ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।

ইরা মনির মামলার বিষয়ে চট্টগ্রাম আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু জানান, ইরা মনিকে হত্যার দায়ে দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামি বাবু শেখকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড  দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড এবং একই আইনের ৯ (৪) (খ) ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দিয়েছে আদালত।

নিহত ইরা মনির বাড়ি সীতাকু-ের ছোট কুমিরা মাস্টার পাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় টমটম চালক। ইরা মনি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার মৃত্যুর পর ৩ মার্চ দুপুরে সীতাকু-ের কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার মধ্যম পুলুপাড়ায়। তিনি ইরা মনির পরিবারের পাশের ঘরে থাকতেন। ওই ঘটনায় ইরা মনির মায়ের করা মামলায় ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। মোট ৬ কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শোনে আদালত। ২ জুলাই যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।

নিছামনির মামলার বিবরণে বলা হয়, গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনিকে দলবেঁধে ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। পরদিন নিছামনির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন। এরপর চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। মামলার মাত্র ৯ দিনের মাথায় ২৩ জুন চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত