২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে ফ্রান্স। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ এক গোল এবং ওসমানে দেম্বেলের গোলে অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে মূল ভূমিকা রেখেছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচের শেষ দিকে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেও, নিজের ইনজুরি ও দলের মহাকাব্যিক লক্ষ্য নিয়ে ম্যাচ শেষে খোলামেলা কথা বলেছেন এই ফরাসি সুপারস্টার।
মরক্কোর বিপক্ষে ১টি গোল এবং ১টি অ্যাসিস্ট করার দিনে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নতুন করে নাম লিখিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই ম্যাচে অবদান রাখার মাধ্যমে টানা দুটি বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি যুক্ত থাকার (গোল ইনভলভমেন্ট) অনন্য এক রেকর্ড গড়লেন তিনি।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তিনি করেছিলেন ৮ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট; আর চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৮ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বমঞ্চে টানা দুই টুর্নামেন্টে এমন কীর্তি গড়া একমাত্র ফুটবলার এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
শুধু তাই নয়, চলতি আসরে এখন পর্যন্ত তাঁর মোট ১১টি গোল ইনভলভমেন্ট (৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট) রয়েছে, যা ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির কিংবদন্তি জার্ড মুলারের (১০ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট) পর একক খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ। এমন অতিমানবীয় পারফর্ম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই ফুটবল বিশ্বে আলোচনা চলছে— এবারও কি মেসির সাথে লড়াই করে গোল্ডেন বুট নিজের করে নেবেন এমবাপ্পে?
ম্যাচের ৭৭ মিনিটে গোড়ালিতে চোট পেয়ে এমবাপ্পে যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন ফরাসি শিবিরে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। তবে ম্যাচ শেষে সমস্ত শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে এমবাপ্পে বলেন:
"পায়ের গোড়ালিতে কিছুটা চোট লেগেছিল, তবে আমি এখন সম্পূর্ণ ঠিক আছি। ওই মুহূর্তে আমার চেয়ে জেপি (জঁ-ফিলিপ মাতেতা) শেষ মিনিটগুলো খেলার জন্য বেশি ভালো অবস্থায় ছিল, তাই ও মাঠে নেমেছে।"
টানা দুই আসরে ফাইনাল খেলা ফ্রান্স এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দ থাকলেও এমবাপ্পের চোখ এখনই মূল ট্রফিতে। ফরাসিদের গা ভাসিয়ে না দেওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন:
"আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তবে আমরা এটাও জানি যে একমাত্র জয়ের মাধ্যমেই রিল্যাক্স করা সম্ভব। কিন্তু এখনও আমাদের অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। আমরা জানি যে সামনে আমাদের জন্য যা অপেক্ষা করছে, তা এ পর্যন্ত আমরা যা পার করে এসেছি তার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন। তবে আমরা যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।"
টেক্সাসের আর্লিংটনে আগামী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সেমিফাইনালে মাঠে নামবে ফ্রান্স। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে স্পেন অথবা বেলজিয়াম। সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ নিয়ে এমবাপ্পে যোগ করেন:
"আমরা এখন ভালোভাবে নিজেদের রিকভারি করব (ক্লান্তি দূর করব) এবং আমাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে তা দেখার জন্য আগামীকালের (আজকের স্পেন বনাম বেলজিয়াম) ম্যাচটি উপভোগ করব।"
দলের সেরা তারকা যেভাবে ইনজুরির শঙ্কা উড়িয়ে জয়ের তাড়না দেখিয়েছেন এবং একের পর এক ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে চলেছেন, তা নিশ্চিতভাবেই বিশ্বজয়ের মিশনে ফরাসিদের আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী করে তুলবে।
মরক্কোর প্রতিশোধ নয়, ফ্রান্সের পুনরাবৃত্তি: মেসিকে ছাড়িয়ে এমবাপ্পে