হিলিতে ট্রাফিকহীন প্রধান সড়ক, তীব্র যানজটে নাকাল মানুষ

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ন মোড়গুলোতে নেই কোনো ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এতে করে ব্যস্ততম সড়কে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক,যাত্রী ও পথচারীরা। সড়কে পণ্যবাহী গাড়ি আটকে পড়ায় বন্দরের ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ছে। 

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর দিনাজপুরের হিলির সাথে রয়েছে সীমান্ত এলাকা। প্রতিদিন হিলির সড়ক দিয়ে শতশত আমদানিকৃত পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক, দেশীয় পণ্যবাহী ট্রাক, আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল করে। কিন্তু হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা মোড় ও টেম্পুস্টান্ড মোড়ে কোনো ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। সড়কের দুপাশে যত্রতত্র ইজিবাইক, অটোরিকশা ও ভ্যান দাঁড়িয়ে রাখছে। আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাকগুলো প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট হচ্ছে। বাস,ট্রাক রিকশা ও ইজিবাইক চালকরা যে যার মতো গাড়ি চালাচ্ছেন। এতে করে যানজটের সৃষ্টি হয়ে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘন্টা আটকে থাকতে হয়। মাঝেমধ্যেই ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। এতে শিক্ষার্থীদের রাস্তা পার হতে গিয়ে ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে। তেমনি হাসপাতালে রোগীরাও বিড়ম্বনায় পড়ছে। 

স্কুল ছাত্র আব্দুল্লাহ বলেন, আমি ফেরদৌস আলী খান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়ি। আমাদের স্কুল শুরু হয় সকাল ৯ টায়। হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা মোড় থেকে সিপি পর্যন্ত কোনো ট্রাফিক না থাকায় আমাদের অনেক সময় সমস্যা হয়। এসব এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। দুই এক ঘন্টায়ও সেটি সমাধান হয় না। এর ফলে স্কুলে সময়মত পৌঁছাতে পারি না। 

স্থানীয় এলাকাবাসী হাবিবুর রহমান বলেন, হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা মোড় খুব ব্যস্ততম একটা মোড়। এই মোড় দিয়ে বন্দরের পণ্যবাহী ট্রাক যেমন যাতায়াত করে তেমনি অন্যান্য জেলার সব ট্রাক বাস এই মোড় দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। এখানে যদি একটা ট্রাফিক শৃঙ্খলা থাকত তাহলে এখানে যানজট হতো না। এছাড়া আমাদের হিলির রাস্তাঘাট ভাঙা যার কারনেও যানজট হয়, দুর্ঘটনা ঘটে। মোড়ে যদি একটা ট্রাফিক থাকত তাহলে এই জায়গাটা খুব একটা শৃঙ্খলাভাবে চলত।

অটোচালক সবুজ হোসেন বলেন, এখানে দিন কি রাত সমানে যানজট লেগেই থাকে। এর উপর ভারত থেকে আমদানিকৃত ভারতীয় ট্রাকগুলো আসলে আরও বেশী যানজট লাগে। এখানে একটা ট্রাফিক পুলিশের দরকার। এর আগে যখন সিপি মোড়ে , চারমাথা মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ তখন যানজট অনেকটা কম ছিল। 

মোটরসাইকেল চালক নূর আলম বলেন,আসলে হিলি একটা যানজটপূর্ণ শহর,এখানে ট্রাফিক থাকলে খুব ভালো হবে। এখানে ট্রাফিক থাকলে সবকিছু একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকত, যানজট কম হত।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা মোড় একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। এখানে চারটা রাস্তার মোড় হওয়ায় সবসময় বেশ যানবাহন যাতায়াত করে। এখানে থানা আছে, এখানে একটা স্থলবন্দর, এদিকে সিপি রোড সবকিছু মিলে এখানে একটা ব্যস্ততম জায়গা। এখানে একটা ট্রাফিক দেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি।

হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী শাহিনুর ইসলাম বলেন, হিলি একটা ট্রানজিট রুট। তো এখানে ট্রাফিক ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরী। স্থায়ী কোনো ট্রাফিক না থাকার কারণে, দীর্ঘসময় ধরে আমাদের এই জ্যামের মধ্যে পড়তে হয়। এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে বিকেল থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত জ্যাম থাকে। এতে করে বন্দরের ব্যবসায়ীদের সমস্যা হয়। 

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। এখানে প্রতিনিয়ত ব্যবসার কাজে সারা দেশ থেকে বিপুল পরিমান লোকজন যাতায়াত করে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য আনা-নেওয়া করা হয়। আমাদের জেলা সদর থেকে এখানকার দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। মাঝে মাঝে আমাদের ট্রাফিক পুলিশ এসে এখানে কাজ করে। তবে তারা এখানে স্থায়ীভাবে থাকে না। উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের সাথে এর আগেও কথা বলছি, আবারও বলবো যাতে এখানে স্থায়ীভাবে ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করা যায়। ট্রাফিক পুলিশ থাকলে যানজট লাগলে দ্রুত নিরসন করবে, মানুষের ভোগান্তি হবে না।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত