পে-স্কেল : নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে আইএমএফ

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেল, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং এ খাতে বাজেট বরাদ্দের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা বা নজরদারিতে রেখেছে।

আইএমএফের সঙ্গে নতুন করে ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অংশ হিসেবে এই বিষয়টি সামনে এসেছে। 

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের রাজস্ব ব্যয়ের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা আইএমএফ মূল্যায়ন করছে। চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ রাখা বরাদ্দের যৌক্তিকতা যাচাই করা হচ্ছে। নতুন ঋণের শর্ত হিসেবে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর সংস্থাটি জোর দিচ্ছে

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ থেকে ১৬ জুলাই আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। সফরের প্রথম দিন অর্থ বিভাগের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম বৈঠকে বাজেট, রাজস্বনীতি, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক অর্থায়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। দ্বিতীয় বৈঠকে গুরুত্ব পাবে নবম জাতীয় পে স্কেল, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা এবং এ খাতে সরকারের ব্যয় পরিকল্পনা।

চলতি বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। জুলাই থেকেই নতুন পে স্কেল কার্যকর হয়েছে। অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইএমএফের কাছে সরকারের মধ্যমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনা, রাজস্ব বৃদ্ধির কৌশল, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং নতুন পে স্কেলের অর্থায়নের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। সরকারের প্রত্যাশা, এসব আলোচনার ভিত্তিতে নতুন ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে নবম পে স্কেলের জন্য অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হবে। এই অর্থ বাজেটের অপ্রত্যাশিত ব্যয় খাতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে বছরে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হতে পারে। সরকার আগামী অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে।

এ অবস্থায় আইএমএফ জানতে চাইছে, বর্তমান রাজস্ব আদায়ের ধারা, মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং কমে যাওয়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে অতিরিক্ত এই ব্যয় কীভাবে সামাল দেওয়া হবে। সংস্থাটির মতে, নতুন ঋণ কর্মসূচি অনুমোদনের জন্য সরকারের শক্তিশালী নীতিগত অঙ্গীকার, বাস্তবসম্মত সংস্কার পরিকল্পনা এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার গ্রহণযোগ্য ভিত্তি থাকা প্রয়োজন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত