অবরুদ্ধ মনপুরা: বিদ্যুৎ নেই, খাদ্যসংকটে হাজারো মানুষ

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

টানা আটদিনের ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানি আর বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরা এখন কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় অন্ধকারে দিন কাটছে বাসিন্দাদের। নিম্ন আয়ের অসংখ্য পরিবার খাদ্যসংকটে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাজিরহাট ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড, মনপুরা ইউনিয়নের ২ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড, উত্তর ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং চরকলাতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর, আবার কোথাও দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে। দাসেরহাট, চরযতিন, সোনারচর, চরজ্ঞান, মাস্টারহাট, খারির খাল, রহমানপুর, কাউয়ারটেক, আন্দিরপাড়, কাজীরচর ও ঢালচর এলাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় জানায়, জলাবদ্ধতার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ, শিশুদের খাবার সংরক্ষণ এবং রাতের নিরাপত্তা নিয়েও ভোগান্তি বাড়ছে। অনেক নলকূপের আশপাশ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। এতে ডায়রিয়া, জ্বর ও চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

হাজিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা মফিজ মিস্ত্রী বলেন, পাঁচ-ছয় দিন ধরে আমরা কার্যত পানিবন্দী। ঘরের ভেতরেও পানি। কাজ নেই, আয় নেই। অনেক পরিবার ধারদেনা করে খাবার জোগাড় করছে।

একই অভিযোগ হাজিরহাটের আনোয়ার, দক্ষিণ সাকুচিয়ার ডা. কামাল, উত্তর সাকুচিয়ার রিপন ও  মনপুরা ইউনিয়নের মমিন তালুকদারের।

তাদের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন খাল দখল, অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং কয়েকটি স্লুইসগেট অকার্যকর থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। তারা দ্রুত খাল পুনঃখনন, স্লুইসগেট সংস্কার ও স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানান।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর থেকে মনপুরাগামী সব যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ভোলা জেলা বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর ও নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু মুছা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার প্রস্তুতি রয়েছে।

মনপুরা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক মাকসুদুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মনপুরায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদ্দৌলা বলেন, টানা বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কাজ চলমান রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে খাল খননসহ স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত