কেইন আর হালান্ডের খেলার ধরন কি একই না আলাদা? 

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম

ইংল্যান্ড ও নরওয়ের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ সামনে রেখে সবার নজর কেবল হ্যারি কেইন ও আর্লিং হালান্ডের গোলমেশিন হিসেবের  নিরন্তর তুলনায়। তবে মাঠের বাইরে এসব আলোচনায় একদমই জড়াতে নারাজ ইংল্যান্ডের অধিনায়ক কেইন। বরং সোজাসাপ্টা স্বীকার করে নিলেন, পরিসংখ্যানের পাতায় তাদের গোলসংখ্যা কাছাকাছি হলেও, মাঠের ভেতর তাদের ভূমিকা ও খেলার ধরন সম্পূর্ণ আলাদা।

কেইনের মতে, তারা একই লক্ষ্যে ছুটলেও তাদের খেলার 'অপারেশনাল এরিয়া' বা পজিশন একে অপরের থেকে পুরোপুরি ভিন্ন। মায়ামিতে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কেইন বলেন, ‘আমাদের দুজনের তুলনা করা কার্যত অসম্ভব। যদিও আমরা দুজনই মূল স্ট্রাইকার হিসেবে মাঠে নামি, তবে আমাদের খেলার ধরন ও পজিশন পুরোপুরি আলাদা। আমি মাঠের খেলায় বলের স্পর্শ বা গেম বিল্ডআপে কিছুটা বেশি সময় কাটাতে পছন্দ করি, যেখানে হালান্ড সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের খেলোয়াড়।’

নিজেদের খেলার ধরণ নিয়ে কেইন আরও ব্যাখ্যা করেন, যদিও গোল করার নেশায় তারা দুজনেই মত্ত, তবুও তাদের ভূমিকা ভিন্ন। প্রতিপক্ষকে নিয়ে ব্যক্তিগত কোনো তর্কে না জড়িয়ে বরং হালান্ডের শারীরিক সক্ষমতা ও ফিনিশিংয়ের প্রশংসাই ঝরেছে কেইনের কণ্ঠে। হালান্ডকে ‘ফিজিক্যাল মেশিন’ বা ‘বিস্ট’ আখ্যা দিয়ে কেইন জানান, একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে তিনি নরওয়েজিয়ান তারকাকে অনেক শ্রদ্ধা করেন। তবে পরক্ষণেই রসিকতা করে বলেন, ‘আশা করি আগামীকাল সে কিছুটা শান্ত থাকবে!’

ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যে বেশি মনোযোগী কেইন। তিনি স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিলেন, তার লক্ষ্য গোল্ডেন বুট নয়, বরং ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করা। তবে গোল করা যে তার সহজাত দায়িত্ব এবং দলের জয়ের জন্য তা অপরিহার্য, তা মনে করিয়ে দিতেও ভুললেন না তিনি। শনিবারের এই ম্যাচে ওয়েইন রুনির ১২০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডে ভাগ বসাতে যাওয়া কেইন এখন পুরোপুরি মনোযোগী কোয়ার্টার ফাইনালের এই কঠিন পরীক্ষার দিকে।

ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও তার অধিনায়কের এই কৌশলী ও পরিপক্ক মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘কেইন কেবল একজন স্ট্রাইকারই নয়, সে আমাদের দলের নেতা। প্রতিটি ম্যাচে সে নিজের উদাহরণ সৃষ্টি করে দলকে এগিয়ে নিচ্ছে। ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে থাকা কেইনের মতো একজন খেলোয়াড় পাওয়া যেকোনো কোচের জন্যই এক বিশাল সুযোগ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত