প্রাথমিকে দেশ সেরা নীলফামারীর দুই শিক্ষক

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন নীলফামারী জেলার দুই শিক্ষক। তাঁরা হলেন কিশোরগঞ্জ উপজেলার শরিফাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.হেদায়েত হোসেন এবং সৈয়দপুর উপজেলার শ্বাসকন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

শনিবার (১১জুলাই) দুপুরে নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম জানান, তাঁরা উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ের মূল্যায়নে অংশ নেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিপ্তরের যুগ্ম সচিব পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবা আইরিন ও শিক্ষা অফিসার মো. রোকনুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁদের জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শনিবার বিভিন্ন ক্যাটাগরির চূড়ান্ত ফলাফল জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ফলাফলে ১৭টি ক্যাটাগরির মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (পুরুষ) মো. হেদায়েত হোসেন ও শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (পুরুষ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।

আগামী ১৫জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের এ পদক প্রদান করবেন। জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে মো.হেদায়েত হোসেন বলেন, দেশের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে আমার দায়িত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে।

চাকরি জীবনের ১৯ বছরের পরিশ্রমের এটি একটি মূল্যবান স্বীকৃতি। একজন প্রধান শিক্ষক কখনো একা কাজ করেন না; এটি একটি টিমওয়ার্ক। আমার সহকর্মীদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ, যাঁরা সবসময় সহযোগিতা, পরামর্শ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে পাশে ছিলেন। আমার শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও দোয়া আমার সাথে ছিল। আমি বিশ্বাস করি, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে অবশ্যই সফলতা আসে।তিনি জানান, ২০২৫ সালে উপজেলা শ্রেষ্ঠ গুনি শিক্ষক, ২০২৪ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইনভেশনে তৃতীয় হয়েছিলেন তিনি।

এছাড়া ২০২২ সালে নীলফামারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মাদক বিরোধী এক মতবিনিময় সভায় তিনি বাংলা সিনেমায় নায়কদের মদ পান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণের দৃশ্য না দেখানোর প্রস্তাব জানান। যা জেলা প্রশাসক সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবনাটি প্রেরণ করেন।

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক মো.মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চাকরি জীবনের ২৭ বছরের মধ্যে ২০ বছর কাব শিক্ষক হিসেবে কাজ করছি। জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। এই সম্মান শুধু আমার একার নয়; এটি আমার বিদ্যালয়, প্রিয় শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী সবার অর্জন। তাঁদের ভালোবাসা, দোয়া, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণাই আমাকে এই অর্জনে পৌঁছে দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, জীবনে সফল হতে হলে সততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশ করতে হবে। স্বপ্ন দেখো, সেই স্বপ্ন পূরণে অধ্যাবসায়ের সঙ্গে এগিয়ে যাও। আমি বিশ্বাস করি, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়বে। 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত