৫২ দিন পর আবার উৎপাদনে রাজস্ব গচ্চা ৭৮ কোটি টাকা

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

পাথর উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক দ্রব্যের সংকটে টানা ১ মাস ২২ দিন বন্ধ থাকার পর দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পের উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে তিন শিফটে খনির ভূগর্ভে পুরোদমে পাথর উত্তোলন শুরু হলে খনিটি শ্রমিকদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে।

গত ১৮ মে ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের (বিস্ফোরক) মজুদ শেষ হয়ে গেলে পরদিন থেকে খনির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে খনিতে কর্মরত ৭ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীকে সাময়িক ছুটিতে পাঠায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)। খনিতে প্রতিদিন ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টন পাথর উত্তোলন করা হচ্ছিল। খনির একটি সূত্র জানায়, প্রতিদিন দেড় কোটি টাকা হিসেবে ১ মাস ২২ দিনে সরকারের রাজস্ব গচ্চা গেছে প্রায় ৭৮ কোটি টাকা।

এই খনি থেকে প্রতি মাসে পাথর বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা দেড় লাখ টন। গত জুন মাসে ৯২ হাজার টন পাথর বিক্রি হয়েছে। চলতি মাসে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ২৩ হাজার টন বিক্রি হয়েছে। পাথর বিক্রি না হওয়ায় খনির ১২ ইয়ার্ডে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টন পাথরের মজুদ গড়ে উঠেছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এখানে মজুদ করার মতো সক্ষমতা হচ্ছে ১৫ লাখ টন।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম রিটু দেশ রূপান্তরকে জানান, মধ্যপাড়া পাথর খনিতে নদী শাসনের জন্য বোল্ডার ৩ লাখ ৮০ হাজার টন এবং রেলপথের জন্য ব্লাস্ট ৯ লাখ ৫০ হাজার টন সবচেয়ে মজুদ রয়েছে। এই দুই সাইজের পাথর বিক্রি কমে যাওয়ায় অর্থ সংকটে পড়েছে খনি কর্র্তৃপক্ষ।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন জানান, থাইল্যান্ড থেকে ৮৮ টন প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (বিস্ফোরক) খনিতে এসে পৌঁছায়। এ পরিমাণ বিস্ফোরক দিয়ে প্রায় আড়াই মাস পাথর উত্তোলন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত