সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সৈনিক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (১২ জুলাই) দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির একজন প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমির উদ্দিন সরকার আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে অবিচল ছিলেন। দলের দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ের কোনো পর্যায়েই তিনি আদর্শচ্যুত হননি। রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধারণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ভূমিকা বিএনপির ইতিহাসে যেমন স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব ও দেশপ্রেমিককে হারাল। তাঁর আদর্শ, সততা ও কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
শোকবার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করার প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।