জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে এক ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তেহরানের দাবি, এই হামলায় বিমানঘাঁটিটির বেশ কয়েকটি জ্বালানি ডিপো এবং গোলাবারুদ মজুত রাখার গুদামে আগুন ধরে গেছে।
আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জর্ডানের ঘাঁটিতে চালানো এই হামলাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের প্রথম দফার প্রতিশোধমূলক অভিযান।
ইরানি বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলার সূত্রপাত হয়েছিল হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসির নৌবাহিনীর একটি সফল অভিযানকে কেন্দ্র করে। সেখানে নৌবাহিনী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে বাধা দেয় এবং সাময়িকভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। ইরানের পক্ষ থেকে জাহাজ দুটির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে বলা হয়, তারা নিজেদের ট্র্যাকিং বা অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করে রেখেছিল, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে চলাচল করছিল এবং সেই সঙ্গে নৌপথের সাধারণ নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছিল। এর জের ধরেই মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় এলাকায় বোমাবর্ষণ করে।
বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের এই প্রতিশোধমূলক ও প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই অভিযানের সার্বিক ফলাফল এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে আগামীতে নতুন বিবৃতির মাধ্যমে দেশবাসীকে বিস্তারিত জানানো হবে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা