রাতে ছড়াখাল থেকে চলছে বালু উত্তোলন, হুমকিতে পরিবেশ

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:২০ পিএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ সিইউএফএল সড়কের পাশের ছড়াখাল থেকে রাতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। সিন্ডিকেটের তোলা এই বালু সড়কের ওপর রেখেই বিক্রি করা হচ্ছে। যত্রতত্র বালুর স্তূপ আর অতিরিক্ত বালু তোলার কারণে সড়কের গাইড ওয়াল হেলে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বালু তোলার ফলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের চলমান উন্নয়ন কাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের আঁধারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই ছড়াখাল থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এই বালু মূলত আবাসন তৈরির কাজে ট্রাকপ্রতি চার হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের তেলের দোকান এলাকায় উত্তরে ছড়াখালের অবস্থান। এটি দেয়াঙ পাহাড়ের ঢলের স্রোতে সৃষ্টি হয়েছে। ওই ছড়াখালের কোনো প্রকার ইজারা না থাকার পরও প্রতিদিন শতাধিক ডাম্পার গাড়ি নিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু বিভিন্ন জায়গায় পাচার করে যাচ্ছে একটি বালুদস্যু চক্র। প্রতিদিন বালু তোলার পর ছড়াখালের পাশের সিইউএফএল সড়কে স্তুপ করে রাখা হয়। এজন্য ছড়ার পাশের নানা জাতের গাছও উপড়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফয়েজ, দিদারসহ তারা কয়েকজন সিন্ডিকেট করে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করছে। তবে তারা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না। এভাবে বালু তুলতে থাকলে বৈরাগের পূর্ব পাড়া ও পশ্চিম পাড়ায় যাতায়াতের জন্য ওই খালের ওপর ৫-৬টি কালভার্ট রয়েছে সেগুলোও চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। এলাকার পরিবেশ-প্রকৃতি ও সরকারি সম্পদ রক্ষার্থেই এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান পারভেজ বলেন, বালু উত্তোলনের কারণে সড়কের একটি গাইড ওয়াল হেলে পড়েছে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে ওই সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ চলছে। সেখানে আরসিসি ঢালাই দেওয়ার জন্য বসানো প্লেটসিট বক্সও হেলে পড়ে গেছে। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রশাসনকে জানাবো।

অভিযুক্ত বালু উত্তোলনকারী আবুল ফয়েজের মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি নিজে কোনো মন্তব্য না করে দিদার নামে এক ব্যক্তিকে ফোন ধরিয়ে দেন। নিজেকে মেরিন অ্যাকাডেমির গাড়িচালক দাবি করে দিদার বলেন, সবাই আসে আমার কাছে, আপনিও আসেন, চা খেয়ে যান। আসেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের ওপর বালু স্তুপ করে রাখায় এই পথে যাতায়াতকারী কোরিয়ান ইপিজেডের শ্রমিকবাহী যানবাহনগুলো সকাল-সন্ধ্যায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে। যার ফলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আপনার কাছ থেকে অবগত হলাম। এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত