ভারপ্রাপ্তদের ভারে ভারাক্রান্ত মুরাদনগরের ৯৪ প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ২০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৪টিতেই দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলেও একসঙ্গে পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। ফলে ভারপ্রাপ্তদের ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়গুলো। এছাড়াও সহকারী শিক্ষকের আরও ৯৩টি পদ শূন্য থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ২০৪টি হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১০ জন। কর্মরত এই শিক্ষকদের মধ্যেও আবার ৪১ জন স্থায়ী নন, তারা চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। ফলে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় একদিকে যেমন দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ১ হাজার ২৪১টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১ হাজার ১৪৮ জন এবং বাকি ৯৩টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এই তীব্র শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে একসঙ্গে একাধিক শ্রেণির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে তারা শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি প্রতিবেদন প্রণয়ন, হিসাব-নিকাশ, অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমেও চাপ বাড়ছে। এর প্রভাব শিক্ষার মান ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরবে এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। তারা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুরাদনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর মোল্লা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় মাঠ পর্যায়ে কিছুটা বেগ পোহাতে হচ্ছে। মূলত এই নিয়োগ নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে কিছু আইনি জটিলতা ও মামলা ছিল, যা ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। শিক্ষক সংকট দ্রুত দূর করতে খুব শিগগিরই পদোন্নতি, নতুন নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন। সাময়িক এই সংকট কাটিয়ে উঠে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে উপজেলা শিক্ষা অফিস সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত