চট্টগ্রামে নামছে পানি, বাড়ছে দুর্ভোগ

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫২ এএম

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাসাবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে দুর্গত মানুষ। তবে পানি নামতে শুরু করলেও বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ কাটছে না; উল্টো যোগ হয়েছে নতুন আতঙ্ক। একদিকে ডায়েরিয়াসহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে, অন্যদিকে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে বিষধর সাপের মারাত্মক উপদ্রব।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা শুরুর পর গতকাল সোমবার পর্যন্ত জেলায় মোট ৮৫ জন সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন। ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০২ জন।

সাপের কামড়ে আহতদের সিংহভাগ লাউডগা, মেটেসাপ বা জলঢোঁড়াজাতীয় নির্বিষ সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বন্যাকবলিত এলাকায় পদ্মগোখরা, শঙ্খিনী, কালাচ ও সবুজ বোড়ার মতো তীব্র বিষধর সাপের উপদ্রবও লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় সাপের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে চলাচলের সময় অবশ্যই টর্চলাইট ব্যবহার করা, সঙ্গে লাঠি রাখা, মেঝেতে না ঘুমিয়ে মশারি ব্যবহার করা এবং সাপে কাটলে ওঝা-কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে এবং দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছালে রোগীদের শতভাগ চিকিৎসার সুব্যবস্থা আছে।

এদিকে বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও এখনো ছনুয়া, শেখেরখীল, ছাম্বলের পশ্চিমাংশ, সরলের কিছু অংশ, কাথারিয়া, বাহারছড়াসহ কিছু এলাকায় এখনো পানি রয়ে গেছে। পানি নেমে যাওয়া এলাকায় মানুষ ফিরতে শুরু করলেও তাদের বাড়িঘর বেহাল হয়ে আছে। অনেকেরই মাটির ঘর মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

সাতকানিয়ায় এখনো দুর্ভোগ কাটেনি হাজারো মানুষের। অনেক এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও অসংখ্য পরিবার এখনো পানিবন্দি। ঘরবাড়িতে পানি থাকায় রান্নাবান্না বন্ধ, দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত মানুষের পুনর্বাসনে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার সাতকানিয়া উপজেলার কেওচিয়া, ধর্মপুর ও বাজালিয়াসহ বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণ করেন বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের প্রতিটি বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দুর্গত মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত রাখা হবে।

তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি দুর্গত, অসহায় ও খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের কাছে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সব সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। শুধু জরুরি খাদ্য সহায়তাই নয়, বরং বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের বসতঘর মেরামতেও সরকারিভাবে আর্থিক ও সামগ্রিক সহায়তা দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত