জন্মের মাত্র তিন মাস পরই থেমে যায় ছোট্ট আব্দুল্লাহ আল হুজাইফার স্বাভাবিক জীবন। অন্য শিশুদের মতো হামাগুড়ি দেওয়া, হাঁটা কিংবা দৌড়ে বেড়ানোর সুযোগ আর কখনোই হয়নি তার। দেখতে দেখতে কেটে গেছে আট বছর। এতদিন ধরে একটি হুইলচেয়ারের অভাবে চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তার পৃথিবী।
রাজশাহী নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কেয়াডারা মধুরডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুর রহমান ও মোছা. রেশমা খাতুন দম্পতির একমাত্র সন্তান আব্দুল্লাহ আল হুজাইফা। আব্দুর রহমান একটি কোম্পানির ভ্যান চালিয়ে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই কোনোমতে সংসার চলে। অভাবের সংসারে সন্তানের জন্য একটি হুইলচেয়ার কেনার সামর্থ্য হয়ে ওঠেনি। বিভিন্ন দপ্তরে সহযোগিতার আশায় ঘুরে প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া আর কোনো সহায়তা মেলেনি।
অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে সামাজিক ও মানবিক সংগঠন রক্ত বন্ধন ফাউন্ডেশন। গত শনিবার সংগঠনটির সদস্যরা হুজাইফার বাড়িতে গিয়ে একটি হুইলচেয়ার উপহার দেন। নতুন হুইলচেয়ারটি পেয়ে বাকরুদ্ধ হুজাইফা কোনো কথা বলতে পারেনি। তবে তার মুখের হাসি, উজ্জ্বল দুটি চোখ আর আনন্দভরা চাহনিই যেন জানিয়ে দিচ্ছিল, বহুদিনের একটি স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
আবেগাপ্লুত হুজাইফার মা মোছা. রেশমা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী যা আয় করেন, তা দিয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। ছেলের জন্য একটি হুইলচেয়ার কিনতে পারিনি। আজ রক্ত বন্ধন ফাউন্ডেশন আমার সন্তানের জন্য হুইল চেয়ার উপহার দিয়েছে। এখন আমার ছেলেকে ঘরের বাইরে নিয়ে যেতে পারব, একটু ঘুরাতে পারব।’
রক্ত বন্ধন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গোলাম মো. মোক্তাদীর রহমান বলেন, ‘সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা যে সহায়তাগুলো অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিই, সেগুলো মূলত দাতাদের সহযোগিতায় সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি সংগঠনের সদস্যরাও অর্থ সংগ্রহ করেন। সবার সহযোগিতায় আমরা এ ধরনের মানবিক কাজ পরিচালনা করে থাকি।’