অচল ১ টাকার কয়েন, ফিরিয়ে দিচ্ছে ভিক্ষুকও

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম

সরকারি বৈধ মুদ্রা হওয়া সত্ত্বেও নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ১ টাকার ধাতব মুদ্রা বা কয়েন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার কাঁচাবাজার, মুদি দোকান, চায়ের দোকান, গণপরিবহনসহ ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এই কয়েন গ্রহণে এক ধরনের অঘোষিত অনীহা তৈরি হয়েছে। ফলে দৈনন্দিন কেনাকাটায় খুচরা টাকার লেনদেন করতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি স্থানীয় ভিক্ষুকরাও এখন আর ১ টাকার কয়েন নিতে চাচ্ছেন না।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, খুচরা লেনদেনের সময় ১ টাকার কয়েন দিলে অনেক দোকানি তা সরাসরি ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ফলে ক্রেতাদের বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে, অথবা ১ টাকার পরিবর্তে চকলেট বা অন্য কোনো পণ্য নিতে হচ্ছে। সরকারি মুদ্রা পকেটে রেখেও তা ব্যবহার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভুক্তভোগীরা। তবে চায়ের দোকানদার ও কাঁচাবাজার ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করছেন না। খুচরা লেনদেন থেকে জমা হওয়া কয়েনগুলো পাইকারি বাজারে বা ব্যাংকে সহজে জমা নেওয়া হয় না বলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ১, ২ ও ৫ টাকার ধাতব মুদ্রা দেশের বৈধ লেনদেনের মাধ্যম এবং এগুলো গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো আইনত দণ্ডনীয়। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, বাজারে কয়েনের স্বাভাবিক প্রচলন ধরে রাখতে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি এবং ব্যাংকগুলোর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারি এই মুদ্রার ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অবশ্য ব্যাংক ও উপজেলা প্রশাসন এই মুদ্রা সচল রাখার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। সোনালী ব্যাংক পূর্বধলা শাখার ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে তাদের শাখায় সব ধরনের বৈধ ধাতব মুদ্রা নিয়মিত গ্রহণ ও বিতরণ করা হয় এবং কয়েন জমা নিতে কোনো বাধা নেই। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, ১ টাকার কয়েন সরকারের বৈধ মুদ্রা এবং এটি বর্জন করা আইনসম্মত নয়। বাজারে কয়েন না নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত