মার্কিন স্থাপনা ধ্বংসে অভিযান চলবে, জানাল ইরান

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:২৮ এএম

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘আগ্রাসী অবকাঠামো’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে অঞ্চলে মোতায়েন থাকা বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে তাদের এই প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইআরজিসির একজন মুখপাত্র জানান, তাদের বর্তমান মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ‘আগ্রাসী অবকাঠামো’ ধ্বংস করা। পরিস্থিতি বিবেচনায় সামনে আরও বড় পদক্ষেপ বা নতুন ধাপের অভিযান শুরু হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

এদিকে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার খবরের পরপরই পাল্টাপাল্টি এই সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দিকে মুখ করে থাকা সিরিক অঞ্চল, বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এবং কুশম দ্বীপে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের কোনারাক অঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোদমে সক্রিয় করা হয়েছে। রাজধানী তেহরান এবং এর কাছাকাছি অবস্থিত পাকদাশত ও পারচিন অঞ্চলের আকাশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয় কর্মকাণ্ড দেখা গেছে। আরও পূর্বের সেমনান প্রদেশ থেকেও হামলার খবর এসেছে, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে যে বিমান হামলার কারণে সেখানকার বিমানবন্দরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া খোররামাবাদেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

অন্যদিকে, ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় মারকাজি প্রদেশের খন্দাবে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। এই এলাকাটি কৌশলগত কারণে অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এখানেই ইরানের অন্যতম প্রধান একটি ভারী পানি উৎপাদন কেন্দ্র (হেভি-ওয়াটার ফ্যাসিলিটি) অবস্থিত। এর আগেও এই এলাকায় একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।

তবে এই সংঘাতের মধ্যেই ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করেছে আইআরজিসি। তারা জানিয়েছে, খুজেস্তান প্রদেশের আনদিমেশকের আকাশে অনুপ্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯’ ড্রোন শনাক্তের পর সেটিকে সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট (গতিপথ রোধ) করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত