ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা বিলে ডেমোক্র্যাটদের বাধা

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ এএম

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়া ট্রাম্প, নিজ দেশে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছেন। এই যুদ্ধ ঘিরে তার নেওয়া নানা সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে নেতিবাচক অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে, এমনকি খোদ রিপাবলিকান পার্টির অনেক আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যেই ট্রাম্পের বিরোধিতা করেছেন। এবার ইরান যুদ্ধ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ১.১৫ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ১৫ হাজার কোটি) ডলারের বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিল (এনডিএএ) আটকে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। গত মঙ্গলবার বিলটির পক্ষে ৫০ এবং বিপক্ষে ৪৬ ভোট পড়ে। তবে ১০০ সদস্যের সিনেটে পরের ধাপে যেতে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট না পাওয়ায় বিলটি আটকে যায়।

সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেনÑ ট্রাম্প কোনো অনুমোদন ছাড়াই, কোনো কৌশল ছাড়াই এবং যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই এই যুদ্ধ শুরু করেছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে শুধু সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন পুনর্বিবেচনার সুযোগ রাখতে সিনেটের নিয়ম অনুযায়ী ‘না’ ভোট দেন। বাকি সব রিপাবলিকান বিলটির পক্ষে ভোট দেন। বিলটির পক্ষে বক্তব্য দিয়ে জন থুন ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘এই বিল আমাদের সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত রাখবে এবং আগামী দিনের জন্যও সক্ষম করে তুলবে।’

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক কমিটিতে বিলটি বিবেচনার সময় ডেমোক্র্যাট সদস্যদের ৯জনই এর বিরোধিতা করেছিলেন। যদিও এনডিএএ সাধারণত দুই দলের সমর্থনেই পাস হয়ে থাকে। গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতি বছর আইন হিসেবে পাস হওয়ায় এনডিএএকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম ‘অবশ্যই পাসযোগ্য’ আইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ডেমোক্র্যাটদের আশঙ্কা, এত বড় প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন দেওয়া হলে সেটিকে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রতি কংগ্রেসের সমর্থন হিসেবে দেখা হবে।

বিল নিয়ে ভোটের সময়ই ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা দেয়, তারা ইরানের সব বন্দরের ওপর আবারও নৌঅবরোধ কার্যকর করেছে এবং নতুন করে হামলা শুরু করেছে। ডেমোক্র্যাটদের যুক্তি হল ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও জোরদার করছেন, তখন কংগ্রেসের এই বিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত নয়। দলের অনেক সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির বিরোধিতা করেছেন। পাশাপাশি পেন্টাগনের জন্য প্রস্তাবিত রেকর্ড পরিমাণ বাজেট নিয়েও তারা আপত্তি জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের এ অবস্থান দলটির ভেতরে বড় ধরনের পরিবর্তনকে সামনে এনেছে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে দেখা গেছে। গত জুনে রয়টার্স/ইপসোস প্রকাশিত এক জরিপ অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০১৮ সালে এ হার ৫৯ শতাংশ ছিল। তবে এই ধাক্কাতেই বিলটি পাসের প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়নি। প্রতি বছর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট পৃথক সংস্করণ পাস করার পর দুই কক্ষের সমঝোতায় চূড়ান্ত বিল তৈরি হয়। সেটি উভয় কক্ষে অনুমোদিত হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর বা ভেটোর জন্য হোয়াইট হাউজে পাঠানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত