মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত দুটি প্রধান কারণে ইরানকে বারবার ধ্বংসের হুমকি দিচ্ছেন। প্রথমত, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের বারবার ড্রোন হামলা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জেরে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দ্বিতীয়ত, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ইরানের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক হত্যা ষড়যন্ত্র বা কিল লিস্টের চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‘তাকে হত্যার চেষ্টা করলেই প্রস্তুত রাখা এক হাজার মিসাইল (ক্ষেপণাস্ত্র) হামলা চালিয়ে ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।’
ওই পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ১০০০ মিসাইল ইরানের দিকে তাক করে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। এর পরে আরও হাজার হাজার প্রস্তুত আছে। ইরানের সরকার বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, যে কি না আমি, তাকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা করলেই তাদের দিকে এগুলো ছোড়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে তেলের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে জুনের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। কিন্তু ইরান হরমুজ প্রণালীর কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ চালালে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে যে, তেহরান এই চুক্তি ভেঙেছে। এর জবাবে মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
মার্কিন হামলায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইরানের সামরিক বাহিনী কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
২০২০ সালে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলেমানি নিহত হন। এরপর থেকেই ট্রাম্প ইরানের হত্যার হুমকির তালিকায় এক নম্বরে রয়েছেন। সম্প্রতি ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যে ট্রাম্পকে হত্যার নতুন ইরানি পরিকল্পনার কথা জানা যায়, যার পর থেকে ট্রাম্প তেহরানকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে স্পষ্টভাবে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। এই উত্তেজনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
বাহামাসে বিমান বিধ্বস্ত, ১০ আরোহীর মৃত্যু