ফিক্সিংয়ের অভিযোগে সাকিবদের ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধরনের দুর্নীতির ঘটনায় তোলপাড় শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট অঙ্গন। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ম্যাচ পাতানোর দায়ে জাফনা কিংসের ভারতীয় সহ-মালিক মনজোত কালরাকে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীলঙ্কা পুলিশ। এই জাফনা কিংসে এবারের আসরে খেলবেন বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তাসকিন আহমেদ।

শুক্রবার কলম্বোর একটি হোটেল থেকে সাবেক এই ভারতীয় ক্রিকেটারকে আটক করা হয়। শ্রীলঙ্কা পুলিশের স্পোর্টস ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, এক খেলোয়াড়কে ৯৫ লাখ শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ২৮ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার) ঘুষ দেওয়ার মুহূর্তে তাকে হাতেনাতে ধরা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রায় ১০ দিন আগে থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই খেলোয়াড়কে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। তবে সেই খেলোয়াড় সরাসরি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোয় বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ভেস্তে যায়।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কেবল একজন নয়, আরও দুজন খেলোয়াড়কে একইভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন কালরা। শ্রীলঙ্কার ক্রীড়া দুর্নীতিবিরোধী কঠোর আইনের আওতায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। এদিকে, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) নিশ্চিত করেছে, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই টুর্নামেন্ট চলবে এবং শুক্রবার রাতেই জাফনা ও গলের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

সাকিব আল হাসান ও তাসকিন আহমেদ এলপিএলের এবারের আসরে জাফনা কিংসের জার্সিতে খেলার কথা রয়েছে। বিদেশি আইকন হিসেবে তারা সরাসরি চুক্তিতে দলভুক্ত হয়েছেন এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে অনাপত্তি পত্রও (এনওসি) পেয়েছেন। তবে এই মুহূর্তে তাসকিন জিম্বাবুয়ের জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত এবং সাকিব খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে। দলের মালিকপক্ষের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ভবিষ্যৎ এবং সাকিব-তাসকিনের অংশগ্রহণ নিয়ে এখন নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।

এলপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ অবশ্য এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত জানুয়ারিতে দাম্বুলা থান্ডার্সের মালিক তামিম রহমানের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। তখন ম্যাচ পাতানো ও অবৈধ বাজির ঘটনায় তাকে কারাদণ্ড ও বড় অংকের জরিমানা করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে প্রণীত শ্রীলঙ্কার কঠোর ক্রীড়া দুর্নীতিবিরোধী আইন অনুযায়ী প্রতিটি ঘটনার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে দেশটির আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত