মসজিদের কাজেও ঘুষ, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন মসজিদ, কালভার্ট, গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন প্রকল্পের বিল পাস করতে ‘৫ শতাংশ’ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নেমেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত এক আদেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এলজিইডির নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীনকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কমিশন দাবি করা হচ্ছে। ‘মেসার্স মনোয়ারা অ্যান্ড ফাল্গুনি ট্রেডার্স’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের একটি প্যাকেজের আওতায় মসজিদের ফ্লোর টাইলস, পুকুর ঘাটলা ও সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করেও তারা চূড়ান্ত বিল পাচ্ছে না।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চূড়ান্ত বিল ছাড়ের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা থাকলেও উপজেলা প্রকৌশলী তা কার্যকর করেননি। উল্টো রানিং বিলের নামে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

এ ছাড়া প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে নিজ জেলায় কর্মরত থাকা এবং একাধিক উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি ঠিকাদার ও অধীনস্থ কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেন, প্রকৌশলী তাদের সাথে প্রায়ই খারাপ আচরণ করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন। এর আগে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা এ এস এম মহসীন জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্ত শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

এদিকে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত