চার শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা বাড়িয়েছে সরকার। পাশাপাশি খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মানী ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১৫ জুলাই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা মাসে ৩০ হাজার এবং বীরবিক্রম ও বীরপ্রতীকরা ২৫ হাজার টাকা করে মূল সম্মানী ভাতা পাবেন। এ ছাড়া যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পঙ্গুত্বের মাত্রা অনুযায়ী ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ এ চার শ্রেণিতে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ পঙ্গুত্বসম্পন্ন ‘এ’ শ্রেণির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসে ৩০ হাজার টাকা মূল ভাতা পাবেন। এর সঙ্গে দুই হাজার টাকা চিকিৎসা এবং পাঁচ হাজার টাকা খাদ্যভাতা মিলিয়ে মাসিক ৩৭ হাজার টাকা পাবেন।
জীবিত ‘এ’ শ্রেণির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অতিরিক্ত সহায়ক ভাতা হিসেবে মাসে আরও আট হাজার টাকা দেওয়া হবে। ফলে জীবিত থাকাবস্থায় তিনি মাসে মোট ৪৫ হাজার টাকা পাবেন। তবে তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা অতিরিক্ত আট হাজার টাকার সহায়ক ভাতা পাবেন না।
৬১ থেকে ৯৫ শতাংশ পঙ্গুত্বসম্পন্ন ‘বি’ শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মাসে ২৮ হাজার টাকা মূল ভাতা পাবেন। চিকিৎসা ও খাদ্যভাতাসহ তার মোট মাসিক সুবিধা হবে ৩৫ হাজার টাকা।
২০ থেকে ৬০ শতাংশ পঙ্গুত্বসম্পন্ন ‘সি’ শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার মূল ভাতা হবে ২৩ হাজার টাকা। চিকিৎসা ও খাদ্যভাতাসহ তিনি মাসে মোট ৩০ হাজার টাকা পাবেন।
১ থেকে ১৯ শতাংশ পঙ্গুত্বসম্পন্ন ‘ডি’ শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার মূল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। দুই হাজার টাকা চিকিৎসা ও পাঁচ হাজার টাকা খাদ্যভাতাসহ তার মাসিক মোট ভাতা হবে ২৭ হাজার টাকা।
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে বছরে দুটি উৎসব-ভাতার প্রতিটির পরিমাণ হবে তাদের নিজ নিজ মূল ভাতার সমান। জীবিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মহান বিজয় দিবসে পাঁচ হাজার এবং বাংলা নববর্ষে দুই হাজার টাকা করে পাবেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভাতার নতুন এ হার গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।