নাটোরের বাগাতিপাড়া সামাজিক বন বিভাগ ও নার্সারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অফিস, কর্মকর্তার আবাসিক ভবন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ার্টার দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থেকে এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অফিস ভবনের দেওয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ছাদের উপর জন্মেছে আগাছা। পরিত্যক্ত কোয়ার্টারগুলো ঝোপঝাড় ও ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়ে সাপ-পোকামাকড়ের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় মাত্র দুইজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়েই চলছে পুরো দপ্তরের কার্যক্রম।
স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের ভবন ও কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না দিলে দপ্তরের কার্যক্রম আরও ব্যাহত হবে। জরাজীর্ণ ভবনগুলো অপসারণ করে নতুন অফিস ভবন ও আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জনবল সংকট দূর করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।
তাদের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত করা গেলে বন বিভাগের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এক কক্ষবিশিষ্ট অফিস ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। ভবনের ছাদের ওপর জন্মেছে আগাছা। পাশেই কর্মকর্তার আবাসিক ভবনটি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, পলেস্তারা খসে ইট বেরিয়ে পড়েছে। দরজা-জানালার অধিকাংশই নষ্ট হয়ে ভেঙে গেছে।
চারপাশে ঝোপঝাড় ও ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় ভবনটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত। একই চিত্র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ার্টারেও। দপ্তরের একটি ফরেস্টার কোয়ার্টার, একটি রেঞ্জ কর্মকর্তার কোয়ার্টার এবং তিনটি স্টাফ কোয়ার্টার বহু বছর ধরে ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, দূর থেকে দেখলে ভবনগুলোকে পরিত্যক্ত ধ্বংসস্তূপ বলেই মনে হয়।
অফিস সূত্র জানায়, বাগাতিপাড়া সামাজিক বন বিভাগে দুইজন মালি, একজন নাইটগার্ড, একজন ফরেস্ট গার্ড, একজন ফরেস্ট কর্মকর্তা ও একজন রেঞ্জ কর্মকর্তার জণ্য ৬টি অনুমোদিত পদ রয়েছে। তবে বর্তমানে একজন মালি ও একজন ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তাকে নিয়েই দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে সেই ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা আবার একই সঙ্গে শাশ্বতী লালপুর উপজেলাসহ একাই দুই উপজেলার দায়িত্বও পালনও করছেন।
উপজেলার বন বিভাগের পাশ্ববর্তী ঘোরলাজ গ্রামের বাসিন্দা আল মামুন বলেন, একসময় বন বিভাগের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত মনোরম। প্রবেশ পথজুড়ে ছিল সারি সারি ফুলের বাগান, যা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত। দূর-দূরান্ত থেকে কেউ উপজেলায় ঘুরতে এলে বন বিভাগের সৌন্দর্য দেখে একবার হলেও বন বিভাগে ঘুরে যেতেন। তখন এখান থেকে নানা প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের উন্নতমানের চারা পাওয়া যেত। মানুষের বিশ্বাস ছিল, বন বিভাগে এলে ভালো মানের চারা নিশ্চিতভাবে পাওয়া যাবে। কিন্তু বর্তমানে দপ্তরের বেহাল অবস্থা ও কার্যক্রমের স্থবিরতার কারণে মানুষ ব্যক্তিমালিকানাধীন নার্সারির ওপর বেশী নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার বন বিভাগের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নিলে এ দপ্তর আবারও আগের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য ফিরে পাবে।
উপজেলা বন বিভাগের মালি ইউসুফ মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব কোয়ার্টারে কেউ বসবাস করেন না। অযত্নে পড়ে থাকায় ভবনগুলোতে ঝোপঝাড় জন্মেছে, সাপ-পোকামাকড়ের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। ভবনগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ যে এখন আর সেখানে থাকা সম্ভব নয়।
অপরদিকে জনবল না থাকায় তাদের দাপ্তরিক কাজে প্রতিনিয়ত নানা রকম ঝামেলায় পড়তে হয়। একজন কর্মকর্তা থাকলেও দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় তার একার পক্ষে সব সামলানো খুবই কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, জনবল সংকটের কারণে দপ্তরের ছয়জনের কাজ বর্তমানে মাত্র দুইজনকে দিয়ে পরিচালনা করতে হচ্ছে। আমি অতিরিক্ত দায়িত্বে থেকে একাই দুটি উপজেলার কার্যক্রম দেখভাল করছি। অফিস কক্ষটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ফলে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। এছাড়া দপ্তরের পুরোনো ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন বাজেট বরাদ্দ পেলে নতুন ভবন নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। আবাসনের ব্যবস্থা থাকলে আমরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে বসবাস করতে পারতাম।
এ বিষয়ে জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম বলেন, তিনি নতুন এসেছেন বিষয়টি তিনি আবগত নন। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলতে পারবেন।
বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।