মুক্তিপণ দিলেও রেহাই নেই, আবারও হামলা চালাতে পারে হ্যাকাররা

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম

সাইবার হামলার পর হ্যাকারদের দাবি করা মুক্তিপণ পরিশোধ করলেও ঝুঁকি শেষ হয় না। বরং মুক্তিপণ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারও লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে নতুন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতে পারে সাইবার অপরাধীরা। এমন তথ্য উঠে এসেছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান প্রুফপয়েন্টের নতুন এক প্রতিবেদনে।

বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রুফপয়েন্ট জানায়, বিশ্বের ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান হ্যাকারদের মুক্তিপণ পরিশোধ করেছে, তাদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি পরবর্তীতে দ্বিতীয়বার চাঁদাবাজির মুখে পড়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যাকারদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়। কারণ অপরাধীরা মুক্তিপণ পাওয়ার পরও চুরি করা তথ্য মুছে ফেলবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। একই তথ্য ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আবারও চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে।

প্রুফপয়েন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে র‍্যানসমওয়্যার হামলার ধরন আগের তুলনায় অনেক বদলে গেছে। আগে হ্যাকাররা একবার মুক্তিপণ আদায় করেই সরে যেত। এখন তারা চুরি করা তথ্য নিজেদের কাছে রেখে তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে একাধিক দফায় অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে।

এর বাস্তব উদাহরণ হিসেবে গত মাসে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লু এর সাইবার হামলার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের তথ্য ফাঁস হয়, যার মধ্যে কয়েকটি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের তথ্যও ছিল। প্রথমে ক্লু জানিয়েছিল, হ্যাকারদের সঙ্গে সমঝোতার পর তারা তথ্য মুছে ফেলেছে। পরে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করে, আরেকটি হ্যাকার গোষ্ঠী চুরি হওয়া তথ্যের একটি অংশ নিজেদের দখলে নিয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকেরা ভবিষ্যতেও চাঁদাবাজির ঝুঁকিতে রয়েছেন।

একই ধরনের ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চেইঞ্জ হেলথকেয়ার এর ক্ষেত্রে। রুশভাষী একটি র‍্যানসমওয়্যার চক্র প্রায় ১৯ কোটি ২০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য চুরি করে। পরে হ্যাকারদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে সংবেদনশীল তথ্য ইন্টারনেটে প্রকাশ ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটিকে দুটি পৃথক অপরাধী গোষ্ঠীকেই মুক্তিপণ দিতে হয়।

যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ২০২৪ সালে লকবিট র‍্যানসমওয়্যার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে একই ধরনের তথ্য পায়। তদন্তে দেখা যায়, অনেক ভুক্তভোগী মুক্তিপণ পরিশোধ করার পরও তাদের চুরি হওয়া তথ্য দীর্ঘদিন ধরে লকবিট-এর সার্ভারে সংরক্ষিত ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইবার হামলার পর মুক্তিপণ পরিশোধ করা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বরং শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত ডেটা ব্যাকআপ এবং দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই এ ধরনের হামলার ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত