আল-আকসা মসজিদে তিন হাজারের বেশি ইসরায়েলিদের অনুপ্রবেশ

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি পুলিশি নিরাপত্তায় এবং দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ৩ হাজার ২০০-এর বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করেছেন। বৃহস্পতিবারের (২৩ জুলাই) এই ঘটনা আবারো ইসরায়েলি দখলদারিত্বের প্রমাণ দিচ্ছে। 

জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াক্‌ফ প্রশাসনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দিনভর ৩ হাজার ২৮৮ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে অনেকেই সেখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কয়েকজন ইসরায়েলি ডোম অব দ্য রকের সামনে ধর্মীয় আচার পালন করছেন এবং আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণে ইসরায়েলের পতাকা উত্তোলন করছেন।

এই অভিযানে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদের সংসদ সদস্য আমিত হালেভিও অংশ নেন।

জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি এবং আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ ইকরিমা সাবরি বলেন, ইহুদি ধর্মীয় উৎসবকে কাজে লাগিয়ে আল-আকসা মসজিদে নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইসরায়েলি সরকার। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি পুলিশের আচরণই প্রমাণ করে যে সরকার বসতি স্থাপনকারীদের এসব কর্মকাণ্ডকে সমর্থন ও অনুমোদন দিচ্ছে।

মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাবরি বলেন, আল-আকসা মসজিদ শুধু মুসলমানদের, তাই এর বিরুদ্ধে চলমান লঙ্ঘনের বিষয়ে ইসলামী দেশগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি সরকারের লক্ষ্য হলো আল-আকসা মসজিদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং এর ব্যবস্থাপনায় ইসলামিক ওয়াক্‌ফ প্রশাসনের কর্তৃত্ব কেড়ে নেওয়া।

এদিকে ইসরায়েলি বেসরকারি সংস্থা পিস নাউ এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার সকালে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া ঘটনা ছিল গুরুতর উসকানি। সংস্থাটি বলেছে, বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদে প্রবেশ এবং সেখানে ধর্মীয় আচার পালন দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সংবেদনশীল স্থিতাবস্থার (স্ট্যাটাস কো) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ধর্মীয় সংঘাত উসকে দেওয়ার চেষ্টার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এ ধরনের গোষ্ঠীকে সমর্থন, অর্থায়ন ও সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এবং বসতি বিষয়ক মন্ত্রী ওরিত স্ট্রকের বিরুদ্ধে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত