বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ৩৯ নাগরিকের বিবৃতি

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙার উদ্যোগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের ৩৯ জন বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছেন।

বিবৃতিতে তারা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে ভাস্কর্যটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সংযোগ সড়কের বেদিতে ঝিনাইদহের কৃতি সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি ভাস্কর্য নির্মাণাধীন অবস্থায় ছিল। হঠাৎ করে একটি ‘খোঁড়া’ অজুহাত দেখিয়ে এবং কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ শুরু করে। এ ঘটনায় জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিদাতারা আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্বাধীনতাবিরোধী একটি গোষ্ঠী নির্মাণাধীন ওই ভাস্কর্যটিতে ভাঙচুর চালিয়েছিল। সেটি সংস্কার না করে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূর্যসন্তানদের অন্যতম বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন ও চরম আপত্তিকর কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা কমানোর যুক্তি তুলে ধরা হলেও ঝিনাইদহের নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।

বিবৃতিতে তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাস্কর্যটি পূর্বস্থানে পুনঃস্থাপনের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনাগুলো সংস্কার ও পুনঃস্থাপনের দাবি জানান এবং এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ৩৯ জন নাগরিক হলেন—

১. আনু মোহাম্মদ, প্রাক্তন অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

২. অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, মানবাধিকার কর্মী ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন

৩. খুশী কবির, সমন্বয়কারী, নিজেরা করি

৪. শিরীন পারভিন হক, সদস্য, নারীপক্ষ

৫. আবু সাঈদ খান, লেখক ও সাংবাদিক

৬. ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, টিআই-বি

৭. অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও সভাপতি, আইন ও সালিস কেন্দ্র

৮. ড. শহিদুল আলম, আলোকচিত্রী

৯. শামসুল হুদা, নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি

১০. অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

১১. অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোট

১২. রেহেনুমা আহমেদ, লেখক

১৩. মো: নুর খান, মানবাধিকার কর্মী

১৪. ড. সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৫. ড. সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৬. ড. জোবাইদা নাসরীন, অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৭. রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৮. গীতি আরা নাসরিন, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৯. ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

২০. তাসনিম সিরাজ মাহবুব, সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

২১. ড. নোভা আহমেদ, অধ্যাপক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

২২. পাভেল পার্থ, লেখক ও গবেষক

২৩. ড. ঈশিতা দস্তিদার, নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক

২৪. রোজিনা বেগম, গবেষক ও অধিকার কর্মী

২৫. কাজল দেবনাথ, সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ

২৬. মনিন্দ্র কুমার নাথ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ

২৭. সালেহ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন

২৮. পারভেজ হাসেম, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী

২৯. সাদাব নুর, রিসার্স ফেলো, ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়

৩০. জাকির হোসেন, প্রধান নির্বাহী, নাগরিক উদ্যোগ

৩১. অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, প্রধান নির্বাহী, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন

৩২. সাঈদ আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী

৩৩. শাহেদ কায়েস, কবি ও প্রাবন্ধিক

৩৪. মিঠুন রাফসান, আদিবাসী কবি ও সংস্কৃতি কর্মী

৩৫. দীপায়ন খীসা, মানবাধিকার কর্মী

৩৬. মুক্তাশ্রী চাকমা, অধিকার কর্মী

৩৭. মেইনথিন প্রমীলা, আদিবাসী অধিকার কর্মী

৩৮. ড. হানা শামস আহমেদ, অধিকার কর্মী

৩৯. সায়দিয়া গুলরুখ, সাংবাদিক ও গবেষক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত