লোহিত সাগরে হামলা হলে ইরান-হুথিদের কঠোর শাস্তির হুমকি ট্রাম্পের

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৪১ এএম

লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হুথিদের হামলার পর ইরান ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে ‘কঠোর সামরিক শাস্তি’র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে হুথিদের যেকোনো হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী করা হবে। সূত্র রয়টার্স। 

হুথিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ শুরু করেছে এবং এর অংশ হিসেবে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে, যা মে মাসের পর প্রথম।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, হুথিরা ইরানের ‘প্রক্সি বাহিনী’। তারা আবার হামলা চালালে ইরান ও হুথি উভয়ের বিরুদ্ধেই বড় ধরনের সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে বলেন, ভবিষ্যতের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে অন্য দেশের সম্পদ জব্দ করার চিন্তা আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র টানা ১৩তম রাতের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির আহভাজ শহরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। পাল্টা জবাবে ইরান জর্ডান ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। তবে এসব হামলায় হতাহতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েত কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি।

হুথিদের হামলার পর লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে বিকল্প রুট ব্যবহার শুরু করেছে, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত