চিরকুটে লেখা ছিল ‘K+P’, শেষ বিদায়েও ছিল না স্বজনেরা 

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

জীবনের মতো শেষ যাত্রাতেও যেন সঙ্গী হলো চরম একাকীত্ব। ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষ হলেও মরদেহ নিতে আসেননি পরিবারের কেউ। অবশেষে স্বজনদের অনুপস্থিতিতেই গৃহকর্ত্রীর নিজ এলাকা ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদে শুক্রবার রাতে দাফন করা হয়েছে কিশোরী গৃহকর্মী ফারহানা আক্তার প্রিয়াকে (১৬)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় পরশুরাম উপজেলা গেট-সংলগ্ন ‘কাদের টাওয়ার’-এর তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে প্রিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ফ্ল্যাটটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জাহেদা আক্তার তিমুর। সেখানে গত প্রায় তিন বছর ধরে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত প্রিয়া। নিহত প্রিয়া নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট এলাকার সাইফুল ইসলাম ও ফারজানা আক্তারের মেয়ে। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে প্রায় তিন বছর আগে তাকে ওই বাসায় কাজে দেওয়া হয়েছিল।

গৃহকর্ত্রী জাহেদা আক্তার তিমু জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি স্কুলে যাওয়ার সময় প্রিয়াকে ভাত রান্না করে খেয়ে নেওয়ার কথা বলে যান। বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকি ও দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দরজা ভাঙেন। ভেতরে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় প্রিয়ার লাশ ঝুলতে দেখেন তারা।

খবর পেয়ে পরশুরাম থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ধাতব ‘লাভ’ আকৃতির একটি বস্তু এবং ডায়েরির একটি পাতায় ইংরেজি অক্ষরে ‘K+P’ লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আলামতের সঙ্গে প্রিয়ার মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে দীর্ঘ সময় পার হলেও নিহত কিশোরীর স্বজনরা মরদেহ নিতে না আসায় অবশেষে গৃহকর্ত্রীর নিজ এলাকা পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এ বিষয়ে পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত