রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা, লাইপজিগ থেকে তরুণ উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দের সম্ভাব্য আগমন এবং হোসে মরিনহোর নতুন ট্যাকটিক্যাল রদবদল, এসবের মধ্যে দলবদলের বাজারে হঠাৎই আলোচনায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বর্তমান চুক্তির শেষ ১২ মাসে পা রাখা এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে দলে টানার প্রাথমিক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব আর্সেনাল।
আক্রমণভাগের শক্তি বাড়াতে গানার্সদের দীর্ঘমেয়াদি শর্টলিস্টে ওপরের দিকেই নাম রয়েছে ২৬ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের। দ্য অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই ক্লাবের মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা না হলেও, ক্লাবটির অন্দরে এই মেগা সাইনিংয়ের পক্ষে রয়েছে জোরালো সমর্থন।
তবে পুরো বিষয়টি মূলত নির্ভর করছে ভিনিসিয়ুসের চুক্তির পরিস্থিতির ওপর। ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও নতুন শর্ত নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। চুক্তির মেয়াদ না বাড়লে লস ব্লাঙ্কোসদের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। কেননা, ফ্রি ট্রান্সফারে তাকে হারানোর ঝুঁকির পাশাপাশি আগামী মৌসুমে তার জন্য মোটা অঙ্কের লয়্যালটি বোনাস পরিশোধেরও বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
রিয়ালের ডাগআউটে মরিনহোর আগমন ও দল পুনর্গঠন এই প্রক্রিয়া স্কোয়াডের অন্য তারকাদের ভবিষ্যতও কিছুটা অনিশ্চিত করে তুলছে কী? উত্তরটা এই মুহূর্তে অবশ্য জটিল। আক্রমণভাগে গতি ও নতুন বৈচিত্র্য আনতে দিওমান্দেকে দলে ভেড়ানোর দৌড়ে এগিয়ে আছে রিয়ালই। এই ট্রান্সফারে রিয়াল জিতে গেলে কিলিয়ান এমবাপ্পে, রদ্রিগো এবং ভিনিসিয়ুসদের নিয়ে গড়া আক্রমণভাগে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।
ইনজুরি ও অফফর্মের মধ্য দিয়ে যাওয়া রদ্রিগোও রিয়াল ছাড়ার গুঞ্জনের মুখে রয়েছেন। প্রিমিয়ার লিগের একাধিক শীর্ষ ক্লাব তার ওপর নজর রাখছে। তবে ভিনিসিয়ুস রিয়ালের দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের সবচেয়ে নিরাপদ ও গুরুত্বপূর্ণ নাম হওয়া সত্ত্বেও সৌদি লিগের লোভনীয় প্রস্তাব এবং ক্লাবের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে তার দলবদল নিয়ে জল্পনা উঠল নতুন করেই।।
২০১৮ সালে ফ্লামেঙ্গো থেকে রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৭৫টি ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে তার নামের পাশে রয়েছে ১২৮টি গোল এবং ১০০টি অ্যাসিস্ট। সবশেষ মৌসুমে ২২ গোল করা এই ব্রাজিলিয়ান তারকা বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের জার্সিতেও ছিলেন দারুণ ছন্দে।