জলে ডুবল ৩১ ম্যাচ

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:০২ এএম

স্বপ্নের মতো একটা মৌসুম কাটিয়েও তৃতীয় বিভাগের দল স্যাফায়ার স্পোর্টিং ক্লাবের ব্যাটার মোহাম্মদ মিলনের কণ্ঠে আক্ষেপ, ‘যেভাবে ব্যাট করছিলাম, পূর্ণাঙ্গ লিগ হলে ভালো হতো। আরও কিছু রান আর সেঞ্চুরি করতে পারতাম। শুধু আমার জন্যই ভালো হতো তা নয়, ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতাও বাড়ত।’

আজ ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে ২০২৫-২৬ মৌসুমের তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ। মিলনের দল ফাইনাল নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগামী মৌসুমে দ্বিতীয় বিভাগেও উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে সচিন রায়ের ভাইকিংস ক্রিকেট একাডেমি ও নির্জন ফারাজির তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমির সে সুযোগ হয়নি। একজন ১৯ উইকেট, অন্যজন ১৮ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেন। ১ উইকেটে পিছিয়ে থেকে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি নির্জনও হতাশা প্রকাশ করেন, ‘এবার ব্যাটিং উইকেটে খেলা হয়েছে। তবু ভালো ছন্দে ছিলাম। অন্যবার সুপার লিগ মিলিয়ে একজন ক্রিকেটার ১৬ ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। এবার আমি ম্যাচ পেয়েছি ৭টি। এর মধ্যে বেশ কিছু ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পুরোটা হয়নি।’

সর্বশেষ ঢাকা তৃতীয় বিভাগ লিগ হয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে। এবার মাঠে গড়িয়েছে ২০ মাস পর। সেটাও শুধু লিগ পদ্ধতিতে। অর্থাৎ সুপার লিগ নেই। আগের মৌসুমগুলোতে যেখানে সব মিলিয়ে ম্যাচ হয়েছে ১২৪টি, এবার সেখানে ৯০ ম্যাচেই আসর শেষ। এর মধ্যে বৃষ্টির তোড়ে ভেসে গেছে ৩১টি! ২০ দলের লিগ পদ্ধতিতে হওয়া টুর্নামেন্টে যে ৫৯টি ম্যাচ হয়েছে, সেখানেও বৃষ্টি আইনে ফল হয়েছে ১৪টি ম্যাচের। এর অধিকাংশ ম্যাচ ২০ ওভারে নেমে আসে। যদিও এই সময়ে লিগ করা ছাড়া উপায় ছিল না বলেই দাবি কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন চৌধুরীর, ‘এখন লিগ না করলে তো মেলাতে পারতাম না। আর এটা কিন্তু আমার হাতে ছিল না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এভাবে সূচি করা ছিল। তবু আমরা মাঝে ১০ (আদতে ৯) দিন লিগ বন্ধ রেখেছি।’

অথচ বর্ষা মৌসুমের আগেই শুরু হয়ে আবার শেষ হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) রিজার্ভ ডে রেখেছিল সিসিডিএম। অথচ ভরা বর্ষায় লিগ হলেও সে সুবিধা পায়নি তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট। যদিও বৃষ্টির কারণে ১০ জুলাই থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত খেলা বন্ধ রাখেন আয়োজকরা। তবু জলে ডুবেছে ৩১টি ম্যাচ। এমন ভুল আর করতে চান না মঈনউদ্দিন, ‘এখন থেকে আমরা নতুনভাবে সবকিছু শুরু করব। এই পথচলায় যদি আমাদের কোনো ঘাটতি বা ত্রুটি দেখতে পান, তাহলে প্রশ্ন তুলবেন। আমাদের একটাই লক্ষ্য, সেটা হলো ক্রিকেটের উন্নতি।’

এই মৌসুমের ক্ষতিটা ভালোই টের পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। ফাইনালের আগে অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে ৮ ইনিংসে ৯৬.৬০ গড়ের পাশাপাশি প্রায় ১১৫ স্ট্রাইক রেটে ৪৮৩ রান করেছেন মিলন। পূর্ণাঙ্গ লিগ হলে এবার তৃতীয় বিভাগের ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ার লক্ষ্য ছিল তার। যেভাবে ছুটছিলেন, সেটা সম্ভব হতো বলে মনে করেন তিনি। আগের মৌসুমে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক আল জুবায়ের ১৬ ইনিংস খেলে করেন ৬০২ রান। তার আগে ইয়াসিন আরাফাত সর্বোচ্চ ৫৯৩ রান করেন ১৫ ইনিংসে।

এবার কাগজে-কলমে লেখা থাকবে তৃতীয় বিভাগ লিগ শেষ হয়েছে। কিন্তু পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে আঁতকে ওঠার মতোই ক্ষতি হয়েছে ক্রিকেটারদের। আগের মৌসুমে যেখানে সব মিলিয়ে ৩৮,৮৫২ রান এবং ২,০৩৭টি উইকেট পড়ে, এবার সেখানে বৃষ্টির বাধায় এবং সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে ম্যাচ হওয়ায় ফাইনালের আগে উঠেছে ২৩,৫৪৬ রান এবং উইকেট পড়েছে ১,০১২টি। সাধারণত তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে খেলে ওপরের দিকে ওঠার স্বপ্ন দেখেন ক্রিকেটাররা। সর্বশেষ মৌসুমেও এই টুর্নামেন্ট থেকে সরাসরি প্রথম বিভাগে ২০ জন ও দ্বিতীয় বিভাগে ৩৫ জন খেলেন। এবার সংখ্যাটা বেশ কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেটাররাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত