স্থানীয় আধিপত্য, ময়লা-বাণিজ্য, ফুটপাতের দোকান, ব্যবসা ও জমি দখলসহ আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রাজধানীর কাফরুল যুবদলের এক নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তাকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকায় চারজন শুটারকে ভাড়া করেন এক স্বেচ্ছসেবক দল নেতা। চুক্তির একটি অংশ অগ্রিম পরিশোধও করা হয়। এ ছাড়া ভাড়াটে শুটারদের থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য ব্যয়ও বহন করেন তিনি। গতকাল সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম।
ডিবিপ্রধান বলেন, হত্যাকা-ে অংশ নেওয়া চার শুটারকে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে আনা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে আরও চার সহযোগী ছিল। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন চঞ্চল, জিহাদ মোল্লা, জিয়ারুল মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ, নাহিদ হাসান, আবির হাওলাদার, আলী হোসেন ও শাফিন আহমেদ। তিনি বলেন, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে শুটারদের ভাড়া করেছিলেন একই থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ। তবে বাবু প্রাণে বেঁচে গেলেও গুলিতে নিহত হন যুবদলকর্মী ইউসুফ। আহত হন সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মিরপুর-১৩ নম্বরের ই-ব্লকের ওপেক্স পোশাক কারখানার সামনে গুলিতে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কাফরুল থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা হয়েছে। হত্যা মামলার তদন্ত করছে ডিবি। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথম দফায় গত ২৯ জুন বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু অস্ত্রে গুলি ভরার সময় মিসফায়ার হওয়ায় সেদিন হামলা করা সম্ভব হয়নি। পরে ২২ জুলাই অভিযুক্তরা আবার ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে ওঠে। পরদিন রাতে বাবুর অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়। ঘটনাস্থলে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান নেওয়া কয়েকজনের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের স্থানীয় বাসিন্দা বলে দাবি করে। পরে তল্লাশির চেষ্টা করলে একজন অস্ত্র বের করে গুলি চালায়। সেই গুলিতে ইউসুফ নিহত হন। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে আহত হন নালাম সরদার ও মনির হোসেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, চঞ্চলকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা ও মাসুম বিল্লাহকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, হত্যাকা-ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভিকটিম ও টার্গেট উভয় পক্ষের রাজনৈতিক পরিচয় তদন্তে এসেছে। যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য অস্ত্রগুলোর উৎস শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় ‘আব্বাস’ ও ‘ইব্রাহিম’ নামে পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম আসার বিষয়ে তিনি বলেন, অপরাধীরা অনেক সময় নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে তুলে ধরতে এসব নাম ব্যবহার করে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
