সমুদ্রের আলোকিত প্রাণী

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০২:৫১ এএম

‘সমুদ্র’ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অজানা জগৎ। যার ৫ শতাংশ জানি, বাকি ৯৫ শতাংশ চোখের আড়ালে। সমুদ্রের ৬৬০ ফুট নিচে আলো পৌঁছায় না। সেখানে ঘুটঘুটে অন্ধকার ও প্রচণ্ড ঠা-া। প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা  ট্রেঞ্চ প্রায় ৭ মাইল গভীর, যা এভারেস্ট পাহাড়ের চেয়ে উঁচু। বিজ্ঞানীরা সমুদ্র গভীরে শক্তিশালী এবং অদ্ভুত গর্জন শুনতে পান, যার সঠিক কারণ অজানা। সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে আছে রঙিন, আলোক উজ্জ্বল ও বিস্ময়কর সব প্রাণী, যাদের সৌন্দর্য দেখে মনে হয় প্রকৃতির এক জীবন্ত শিল্পকর্ম। গভীর সমুদ্রের অনেক প্রাণী শরীরে আলো জ্বালাতে পারে যাকে ‘বায়োলুমিনেসেন্স’ বলে। অন্ধকার সমুদ্রের মাছ আলো ব্যবহার করে, শিকারকে কাছে টেনে আনে। শত্রুকে ভয় দেখাতে বা বিভ্রান্ত করতে, আলোর ঝলকানি তৈরি হয়। মালদ্বীপের সমুদ্রসৈকতে রাতে ডাইনোফ্ল্যাজেলেটস নামের এক ধরনের প্লাঙ্কটন, সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মিশে উজ্জ্বল নীল আলো তৈরি করে যা ‘সি অব স্টারস’ নামে পরিচিত। বিজ্ঞানীরা এই রাসায়নিক প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করছেন। জেলিফিশ, স্কুইড এবং প্লাঙ্কটনের মতো সামুদ্রিক প্রাণী, কীভাবে এই জাদুকরী আলো  তৈরি করে এবং এর বৈজ্ঞানিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বিজ্ঞানীরা  জেনেছেন। ‘বায়োালুমিনেসেন্স’ মানে, জীবন্ত প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে, আলো ছড়িয়ে পড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সহজ কথায় হলো, জৈবিক আলো। ভবিষ্যতে গাছপালাকে ‘বায়োলুমিনেসেন্স’ করে, রাস্তার বাতির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার এবং মেডিকেল গবেষণায় ক্যানসার কোষ ট্রেকিংয়ের কাজে প্রযুক্তিগত ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত