‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির বাস্তব পরীক্ষা

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৮ এএম

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও ভূকৌশলগত মানচিত্রে, বাংলাদেশ এমন স্পর্শকাতর ভৌগোলিক সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে যেখানে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য অভূতপূর্ব গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান-উত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতায় গঠিত সরকার, পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার যে কৌশল গ্রহণ করেছে, তা বিশ্ব পরাশক্তির নজর কেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত, সার্জিও গোরের আজকের ঢাকা সফর এই নীতি পরীক্ষার প্রথম বড় মানদণ্ড হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন দেখতে চায়, ঢাকার ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ তাদের নিরাপত্তা স্বার্থের কতটা অনুকূলে। ইতিহাস নির্দেশ করে ভারত মহাসাগরের কৌশলগত পয়েন্টে অবস্থানকারী রাষ্ট্রগুলোর জন্য, যেকোনো একমুখী অক্ষের ওপর নির্ভর ঝুঁকিপূর্ণ। বেইজিং, ওয়াশিংটন ও দিল্লির পরস্পরবিরোধী ভূরাজনৈতিক স্বার্থের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে ঢাকাকে আজ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। গোরের আলোচনার অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য সরকারের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির সীমা পরিমাপ এবং বাংলাদেশকে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।

সরকারের পররাষ্ট্রনীতির প্রথম বড় পরীক্ষা দৃশ্যমান হয়, বেইজিং সফরের মধ্য দিয়ে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের চীন সফর এবং দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু উচ্চপর্যায়ের চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আলোড়ন তুলেছে। কেবল বাণিজ্যিক আদান-প্রদান নয় বরং অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বন্দর আধুনিকীকরণ এবং তিস্তা নদী প্রকল্পের মতো দীর্ঘমেয়াদি ইস্যুতে চীনা অংশগ্রহণের নতুন রূপরেখা ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের গভীর চিন্তায় ফেলেছে। চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের কৌশলগত গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়া এবং সিকিউরিটি ডায়ালগ জোরদারের বিষয়কে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’ সাপেক্ষে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। এই পটভূমিতে সার্জিও গোরের ঢাকা সফরের জরুরি বার্তা সাজানো হয়েছে। বিশ্বখ্যাত সামরিক ও কূটনৈতিক সাময়িকীগুলোর মতে, বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূলে চীনের কৌশলগত বা সমুদ্র নিরাপত্তা উপস্থিতি বৃদ্ধি রোধ করা, গোরের সফরের প্রধান এজেন্ডা। তিনি বিশেষ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে চীনের সঙ্গে সম্পাদিত অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলোর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা সম্পর্কে, ঢাকার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কথা তুলে ধরতে পারেন। 

সার্জিও গোরের ঢাকা সফর, যুক্তরাষ্ট্রের ‘লেনদেনভিত্তিক কূটনীতি’ ও কৌশলগত বার্তার কূটনৈতিক তৎপরতা হালনাগাদের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের প্রতিক্রিয়াশীল আবহের মধ্যে আজ সার্জিও গোর যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের শক্তিশালী প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা Reuters ও Bloomberg-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী সার্জিও গোরের আগমন ট্রাম্প প্রশাসনের লেনদেনভিত্তিক কূটনীতির স্পষ্ট প্রতিফলন। সফরের প্রত্যক্ষ উদ্দেশ্যে হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি, ৫-জি ও টেলিকম অবকাঠামোয় চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার সীমিতকরণ এবং বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক নজরদারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারেন। সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশকে পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা ও নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিনিময়ে ওয়াশিংটনের ইন্দো-প্যাসিফিক এজেন্ডার সমান্তরালে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। গোরের সফরের মূল বার্তা হতে পারে স্পষ্ট। বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও উন্মুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করতে, ওয়াশিংটন ঢাকাকে একটি অপরিহার্য অংশীদার মনে করে। তবে সেই অংশীদারত্ব টিকিয়ে রাখতে, বাংলাদেশকে বেইজিংয়ের কৌশলগত বলয় থেকে নির্দিষ্ট কূটনৈতিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এই সফরকে কেন্দ্র করে, দিল্লি তার ব্রিকস কার্ড প্লে করবে। ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ আমন্ত্রণ তারেক রহমানকে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনা তৎপরতার মধ্যে আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারত, ঐতিহাসিক অবস্থান দ্রুত পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন পরবর্তী সময়ে, দিল্লি ও ঢাকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে শৈত্যপ্রবাহ তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে ভারত এখন বাস্তবমুখী কূটনীতির পথ নিয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সার্জিও গোরের ঢাকা সফরে দিল্লির এই ব্রিকস ডিপ্লোম্যাসি, নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। The Indian Express ও ORF-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি ও ওয়াশিংটন চাইছে, বাংলাদেশকে বেইজিং ও মস্কোর তৈরি আমেরিকান মুদ্রা বর্জন অক্ষ থেকে মুক্ত রাখতে। সার্জিও গোরের সঙ্গে দিল্লির নীতিনির্ধারকদের সাম্প্রতিক কৌশলগত সমন্বয়ের আলোকে তিনি ঢাকায় আমেরিকান অর্থনৈতিক সুযোগ এবং ডলারভিত্তিক বাণিজ্য সুরক্ষার প্রস্তাব দেবেন। যাতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিলেও, বাংলাদেশ যেন পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে না যায়।

এদিকে আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশের বাইরে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে প্রত্যক্ষ নিরাপত্তা সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার জান্তা বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাত কেবল মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এর প্রভাব পড়ছে বান্দরবান ও টেকনাফ সীমান্তে। অবিরত গোলাবর্ষণ, আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং শরণার্থী অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় সীমান্ত এলাকায় কার্যত যুদ্ধকালীন পরিবেশ বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, সংঘাতময় পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী সীমান্তে নিরাপত্তা বলয় তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। সার্জিও গোরের সফরের সীমান্তবিষয়ক গোপন এজেন্ডায়, রাখাইনের যুদ্ধাবস্থা বড় জায়গা জুড়ে থাকতে পারে। মিয়ানমার সীমান্ত সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সমর্থন এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের আশ্বাস দিতে পারেন গোর। একই সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে, কোনো উগ্রপন্থী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যেন যুক্তরাষ্ট্রের বা আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি না হতে পারে সে বিষয়েও তিনি সরকারের সঙ্গে বার্তা বিনিময় করবেন।

অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর, আশপাশের দ্বীপ ও রেয়ার আর্থ মিনারেল নিয়ে সংগোপনে চলছে বৈশ্বিক সম্পদের মহাযুদ্ধ। মিয়ানমার সীমান্ত ও রাখাইনের উত্তেজনার গভীরে রয়েছে, অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক সম্পদের বিশাল সমীকরণ। ভূতাত্ত্বিক তথ্য অনুযায়ী, রাখাইন এবং বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় রয়েছে প্রচুর ‘রেয়ার আর্থ মিনারেল’ ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সঞ্চয়, যা সেমিকন্ডাক্টর ও আধুনিক অস্ত্রশিল্পে অপরিহার্য। সেন্টমার্টিনসহ বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত দ্বীপগুলোর আশপাশে প্রভাব বিস্তার করা ভারত, চীন ও আমেরিকা তিন পরাশক্তির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিরক্ষা সাময়িকী Janes Defense-এর মতে, বঙ্গোপসাগর হলো মালাক্কা প্রণালির একটি বিকল্প সামরিক পথ এবং কৌশলগত ‘Anti-Access/Area Denial (A2/AD)’ অঞ্চল। সার্জিও গোরের সফরের অর্থনৈতিক ও সামরিক বড় উদ্দেশ্য হলো, বঙ্গোপসাগরের সম্পদ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যিক রুটের ওপর চীনা নিয়ন্ত্রণ ঠেকানো। আলোচনায় গোর, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার ও গভীর সমুদ্রে সম্পদ আহরণে যুক্তরাষ্ট্রের টেকনোলজি ও যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব তুলে ধরে, ঢাকাকে নিজের পক্ষে রাখার চেষ্টা করবেন।

সবকিছু ছাপিয়ে দৃশ্যমান হচ্ছে, বার্মা অ্যাক্ট বনাম বেল্ট অ্যান্ড রোড নিয়ে দুই পরাশক্তির অঘোষিত প্রক্সি যুদ্ধ। বঙ্গোপসাগর ও মিয়ানমারকে কেন্দ্র করে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এই প্রক্সি যুদ্ধ এখন দৃশ্যমান। আমেরিকা তাদের ‘বার্মা অ্যাক্ট’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে, মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পরোক্ষ সমর্থন দিয়ে ভারত মহাসাগরে চীনের প্রবেশাধিকার রুদ্ধ করতে চায়। ওয়াশিংটনের মূল টার্গেট হলো, ‘চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর’ অকার্যকর করা। বিপরীতে, বেইজিং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে গভীর সমুদ্রবন্দর ও পাইপলাইনের মাধ্যমে, সরাসরি ভারত মহাসাগরের সংযোগ সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। সার্জিও গোরের ঢাকা সফরে ‘বার্মা অ্যাক্ট’ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কীভাবে ব্যবহার করা যায় বা বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি কী তা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হতে পারে। সরকারের কাছে গোর এমন প্রতিশ্রুতি চাইতে পারেন, যাতে চীন যেন এদেশের ভূখণ্ড বা সামুদ্রিক সীমা ব্যবহার করে তাদের বিআরআই প্রকল্পকে মার্কিন বার্মা অ্যাক্টের বিপরীতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে।  এদিকে রয়টার্সের সঙ্গে শেখ হাসিনার ফিরে আসার ঘোষণা ও তার প্রভাব গোরের কূটনৈতিক এজেন্ডায় স্থান পেতে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে ভূরাজনৈতিক উত্তাপ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক অবস্থান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে এসে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার’ সাম্প্রতিক ঘোষণা, রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন গতি এনেছে। টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মূল শর্ত, দেশের সব নিবন্ধিত দলের অংশগ্রহণে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি নিশ্চিত করা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে ভারতীয় শীর্ষ কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক বৈঠক ও কৌশলগত আলোচনার বিষয়টি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় গণমাধ্যমের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাজনিত স্বার্থে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের ওপর একটি সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক বার্তা বজায় রাখছে, যেন বাংলাদেশে ‘Democratic Pluralism’ ’ এবং সব প্রধান দলের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত থাকে। সার্জিও গোরের ঢাকা সফরে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন, মূলধারার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ এবং শেখ হাসিনার আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক ফোরামের সর্বজনীন রাজনৈতিক অংশীদারত্ব কাঠামোর আলোকে আলোচনার অন্যতম এজেন্ডা হতে পারে। কোনো ষড়যন্ত্রমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নয়, বরং স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক ধারায় একটি প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, গোরের সফরের রাজনৈতিক আলোচনার মূল বার্তা হতে পারে।  সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সুসংহত ভারসাম্য কূটনীতি বিবেচনায় বলা যায় সার্জিও গোরের সফর দেশকে চ্যালেঞ্জিং মোড়ে দাঁড় করাতে পারে। একদিকে বিশ্বশক্তির প্রক্সি যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপ, অন্যদিকে সীমান্ত সংকট ও অভ্যন্তরীণ রাষ্ট্র পুনর্গঠনের দায়িত্ব। এই জটিল সময়ে অর্থনৈতিক ঝুঁকি থেকে মুক্ত এবং সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখতে হলে, ঢাকাকে সুসংহত ভারসাম্য কূটনীতি অনুসরণ করতে হবে। সার্জিও গোরের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশ ‘ফার্স্ট নীতি’ থেকে বিচ্যুত না হয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাণিজ্য সুবিধা ও প্রযুক্তি নিশ্চিত করা, চীনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক অবকাঠামোগত বিনিয়োগ গ্রহণ এবং ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুসংহত করাই সঠিক পথ। গোরের সফরকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কেন্দ্র হিসেবে না দেখে, জাতীয় স্বার্থ উদ্ধারের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। প্রজ্ঞাপূর্ণ বহুপাক্ষিক কূটনীতির সমন্বয় ঘটলে বাংলাদেশ বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা এড়িয়ে, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে বিশ্বমঞ্চে আত্মমর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।

লেখক : কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত