গাড়িতে নয়, বাবার পুরনো সাইকেলে চড়ে বিয়ের আসরে গেলেন কনে

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:১২ পিএম

বিয়ের দিন কনেকে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে যেতে সাধারণত সাজানো বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু মেক্সিকোর আনা সেসিলিয়া কোতার কাছে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাত্রার জন্য দামি গাড়ির প্রয়োজন ছিল না। তিনি বেছে নিয়েছিলেন বাবার পুরনো সাইকেল, যার পেছনে বসেই কেটেছিল তার শৈশবের অসংখ্য সময়।

মেক্সিকোর সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যের লস মোচিস শহরে বড় হয়েছেন আনা। ছোটবেলায় তার বাবা নিয়মিত সাইকেলে করে তাকে স্কুলে পৌঁছে দিতেন। কখনো বাজারে, কখনো প্রয়োজনীয় কাজে, আবার কখনো নিছক ঘুরতে বের হলে বাবার সাইকেলই ছিল একমাত্র বাহন।

সাইকেলটি তাদের কাছে কেবল যাতায়াতের বাহন ছিল না। সেটির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল একজন বাবার প্রতিদিনের পরিশ্রম, দায়িত্ব ও মেয়ের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি। অর্থের প্রাচুর্য না থাকলেও বাবা কখনো মেয়েকে নিজের যত্ন ও সময়ের অভাব বুঝতে দেননি।

২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিয়ের দিন ঘনিয়ে এলে আনা বাবার কাছে একটি বিশেষ আবদার করেন। কোনো বিলাসবহুল গাড়িতে নয়, সেই পরিচিত সাইকেলেই তিনি গির্জায় যেতে চান। তাই বাবাও মেয়ের ইচ্ছা পূরণ করতে সাইকেলটি যত্ন করে রং করেন। বিয়ের সাজসজ্জার সঙ্গে মিল রেখে সেটিকে হলুদ রঙে সাজিয়ে তোলেন।

বিয়ের পোশাকে সেজে আনা যখন আবারও বাবার সাইকেলের পেছনে বসলেন, তখন যেন সময় কয়েক বছর পেছনে ফিরে গেল। সামনে প্যাডেল চালাচ্ছিলেন সেই একই মানুষ, যিনি একসময় ছোট্ট মেয়েটিকে স্কুলে নিয়ে যেতেন। শুধু এবার তাদের গন্তব্য ছিল নতুন জীবনের সূচনা।

সেদিন সাইকেলটি শুধু একজন কনেকে বহন করেনি। বহন করেছিল শৈশবের স্মৃতি, বাবার অপরিমেয় ত্যাগ এবং এমন এক ভালোবাসা, যার মূল্য কোনো দামি গাড়ি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। আনার এই সিদ্ধান্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অসংখ্য মানুষ আবেগাপ্লুত হন। কারণ তার বিয়ের বাহনটি সাধারণ হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গল্পটি ছিল অসাধারণ।

কখনও কখনও জীবনের সবচেয়ে সুন্দর যাত্রার জন্য বিলাসিতার প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন শুধু এমন একজন মানুষ, যিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাশে থাকেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত