‘অ্যাপোক্যালিপ্টো’ সিনেমা

ধাওয়ার দৃশ্যে সত্যিকারের প্রশিক্ষিত কালো চিতার ব্যবহার, প্রাণবন্তর দৃশ্য

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

২০০৬ সালে ‘অ্যাপোক্যালিপ্টো’ সিনেমা নিমার্ণের সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ কঠিন এক পথে বেছে নিয়ে ছিলেন নির্মাতা মেল গিবসন। চলচ্চিত্রে কালো চিতার ধাওয়া দৃশ্যে সত্যিকারের প্রশিক্ষিত কালো চিতার ব্যবহার করা হয়েছিল। ছবিটির বড় অংশ মেক্সিকোর জঙ্গলে ধারণ করা হয়। সংলাপ ছিল ইউকাতেক মায়া ভাষায়।

সিনেমায় পুরো জগতকে যতটা সম্ভব বাস্তব দেখাতে নির্মাণে ব্যাপকভাবে বাস্তব সেট, লোকেশন ও প্র্যাকটিক্যাল কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল।

এরপর আসে সেই বিখ্যাত কালো চিতার ধাওয়ার দৃশ্য। প্রাণীটিকে পুরোপুরি কম্পিউটার গ্রাফিক্সে তৈরি করার বদলে নির্মাতারা সত্যিকারের একটি জাগুয়ার ব্যবহার করেন। অভিনেতার পেছনে দৌড়ানোর সময় প্রাণীটির গলায় নিরাপত্তার কলার ও বাঁধন ছিল এবং প্রশিক্ষক ও হ্যান্ডলাররা পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন।

পরে সম্পাদনার সময় দৃশ্যমান নিরাপত্তা বাঁধন কম্পিউটার গ্রাফিক্সের সাহায্যে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এ দৃশ্যের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গিবসন নিজেও বলেছিলেন , জাগুয়ারকে সাধারণ অভিনেতার মতো ‘প্রশিক্ষণ’ দিয়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই দৃশ্যটি বাস্তব রাখলেও নিরাপত্তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

প্রাচীন ভাষার সংলাপ, তুলনামূলক অপরিচিত অভিনয়শিল্পী এবং প্রচলিত হলিউড ছবির বাইরে নির্মাণশৈলী- সব মিলিয়ে এর বাণিজ্যিক সাফল্যের নিশ্চয়তা ছিল না। কিন্তু মুক্তির পর ছবিটি সেই সংশয় অনেকটাই ভুল প্রমাণ করে।

২০০৬ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া অ্যাপোক্যালিপ্টো বিশ্বজুড়ে ১২ কোটি ডলারের বেশি আয় করে। পরিচালনা, চিত্রগ্রহণ ও অভিনয়ের জন্যও ছবিটি প্রশংসা পায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত