মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অনুমোদন আটকে রেখেছে ব্রাজিল, ক্ষুদ্ধ ওয়াশিংটন

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:০১ পিএম

ব্রাজিলে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক অনুমোদন (আগ্রেমো) এখনো দেয়নি ব্রাজিল সরকার। কয়েক সপ্তাহ ধরে অনুমোদন ঝুলে থাকায় ওয়াশিংটনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অনুমোদন নিয়ে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে নির্বাচনের আগে ব্রাসিলিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাষ্ট্রদূত নাও থাকতে পারে। এতে দুই দেশের বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।  

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১ জুন ফ্লোরিডার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড্যানিয়েল পেরেজকে ব্রাজিলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্রাজিলের পূর্বানুমতি বা ‘আগ্রেমো’ ছাড়াই এই মনোনয়ন দেওয়া হয়, যা প্রচলিত কূটনৈতিক রীতির ব্যত্যয়।

ব্রাসিলিয়ার কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ব্রাজিল সরকার বিষয়টিকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। গত সপ্তাহে মার্কিন সিনেটের সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন পেলেও ব্রাজিলের আনুষ্ঠানিক সম্মতি ছাড়া পেরেজ দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না। 

মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ব্রাজিল ইচ্ছাকৃতভাবে অনুমোদনের প্রক্রিয়া ধীর করছে। বিষয়টির দ্রুত সমাধান না হলে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিবেচনা করতে পারে বলেও রয়টার্সকে জানিয়েছেন একটি সূত্র।

দীর্ঘদিন ধরেই প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার প্রশাসনের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। লুলার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের দাবি, ব্রাজিলে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্ষণশীল রাজনীতিকদের দমন করা হচ্ছে। 

পেরেজের আগ্রেমো আটকে রাখার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করবেন কে, তা নির্ধারণের অধিকার প্রেসিডেন্টের। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে ব্রাজিলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি কূটনৈতিক নিয়ম অনুসারেই পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাদের একজন বলেন, ৪ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে অনুমোদন মিলবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা বলছি না যে আগ্রেমো দেওয়া হবে না। তবে এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কখন অনুমোদন দেওয়া হবে, তা পুরোপুরি স্বাগতিক দেশের সিদ্ধান্ত।’ 

ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী আগ্রেমো-সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়া গোপনীয়। তাই এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত