খাল খননের প্রায় ৮ কোটি টাকা ফেরত

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪ এএম

ফেনীতে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় বাস্তবায়িত সাতটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত রয়ে গেছে ৭ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলার পাঁচ উপজেলায় সাতটি প্রকল্পে মোট ১২ কোটি ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৮ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ১৩৫ টাকা। অব্যয়িত অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ২১ জুন ‘খালে পুকুর চুরির আয়োজন’ শিরোনামে দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতায় সংবাদ প্রকাশের পর এ প্রকল্পগুলোর অতিরিক্ত বরাদ্দের বিষয়ে আলোচনায় আসে। জেলা প্রশাসন হতে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সোনাগাজীর ডাঙ্গি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ৯৪৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৬২১ টাকা। এতে অব্যয়িত ৪ কোটি ৯০ লাখ ২০ হাজার ৩২৪ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ফেনী সদর উপজেলার দাউদপুর-মধুয়াই খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ২৮ হাজার ১৬৫ টাকা। অব্যয়িত রয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ ২৪ হাজার ৬১০ টাকা। একই উপজেলার মোহাম্মদ আলী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৩১ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৮৫ লাখ ৪৫ হাজার ৪৭০ টাকা। এ প্রকল্পে অব্যয়িত ৬১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

ফুলগাজী উপজেলার গতিয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩৫ লাখ ১২ হাজার ৭৫৪ টাকা। অব্যয়িত ১৬ লাখ ৪১ হাজার ২৪১ টাকা কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদে ভেদা খাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৩১ লাখ। পুনঃখনন প্রকল্পে ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা ১৯ হাজার ৭৮২ টাকা। অব্যয়িত ৪৬ লাখ ৯ হাজার ৬১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। দাগনভূঞা উপজেলার বিরলী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৭৪ টাকা। অব্যয়িত ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫২১ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। একই উপজেলার সিলোনিয়া বাজার-নোয়াজপুর খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ব্যয় হয়েছে ২৫ লাখ ৯১ হাজার ৮৬৯ টাকা। এ প্রকল্পে অব্যয়িত ২৫ লাখ ৬২ হাজার ১২৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন হতে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সাতটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সোনাগাজীর ডাঙ্গি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অগ্রগতি হয়েছে ৫৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ, পরশুরামের বক্সমাহমুদের ভেদা খাল প্রকল্পে ৮৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, চলতি বছরের জুনের মধ্যে খাল পুনঃখনন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সেই হিসেবে প্রকল্পের কাজ শেষে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদে পুনঃখনন করা খালগুলোর সুফল পাবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত